নগদ টাকা থেকে সোনা—যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে অনুদান পাঠাচ্ছেন কাশ্মীরিরা
মধ্যপ্রাচে চলতে থাকা সংকটের মধ্যে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরে দেখা গেল অদ্ভুত চিত্র। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করে কাশ্মীরের বিশেষ করে, বুদগাম এবং বারামুলা জেলার বাসিন্দারা শুরু করেছে এক মানবিক কর্মসূচি। তারা নিজেদের গয়না, সোনার আংটি, কানের দুল, রূপা এবং নগদ অর্থ দিয়ে ইরানে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার চেষ্টা করছে।
বুদগামের খান্দা গ্রামের নারীরা তাদের সোনার গয়না দান করে বলেছেন, ইরানের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।
ঈদুল ফিতর উদযাপনের পর শিয়া অধ্যুষিত এলাকার স্বেচ্ছাসেবীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণ জোগাড় করছে। মানুষজন কেবল গয়না বা অর্থই দিচ্ছে না, বরং গবাদি পশু এবং ঐতিহ্যবাহী তামার জিনিসও দিচ্ছে।
এসব দান পাঠানো হচ্ছে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসে, যাতে তারা যুদ্ধের সময়ে দেশকে সহায়তা করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে সোনার গয়না জমা দিচ্ছেন। শিশুরা তাদের ঈদ উপহারের অর্থ দান করছে, একজন আইনজীবী তার পরিবারের কাছ থেকে ৩১ লাখ রূপি সংগ্রহ করে দিয়েছেন।
স্থানীয় সংগঠকরা বলছেন, দানের পরিমাণ কয়েক কোটি রূপিতে পৌঁছেছে, যার মধ্যে সোনা-রুপোর মূল্যও রয়েছে। এগুলো নগদে রূপান্তরিত করে অথরাইজড চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানের দূতাবাসে পাঠানো হচ্ছে।
ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস সোশাল মিডিয়ায় এই দানের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছে। ভারতীয় কাশ্মীরিদের দয়াশীলতা এবং মানবতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে তারা।
এক্সে ইরানি দূতাবাস লিখেছে, কৃতজ্ঞতায় আমাদের হৃদয় পূর্ণ হয়ে গেছে। মানবিক সহায়তা এবং হৃদয়নিংড়ানো সংহতি নিয়ে ইরানের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কাশ্মীরের দয়ালু মানুষদেরকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। ভারতকে ধন্যবাদ।
এই দানের পেছনে রয়েছে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাব। ইরানের উপর মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণের খবরে কাশ্মীরের মুসলিম সম্প্রদায়ে গভীর ক্ষোভ।
সমাজের নারী, পুরুষ ও শিশু থেকে শুরু করে সব শেণির মানুষ এই ত্রাণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। বহু নারী তাদের গয়না এবং ঘরের মূল্যবান জিনিস দান করেছেন। কাশ্মীরের এক বিধবা স্বামীর স্মরণে ২৮ বছর ধরে সংরক্ষণ করে রাখা সোনার একটি স্মৃতিস্মারক দান করেছেন।
যুদ্ধে দুর্ভোগ পোহানো ইরানিদের সঙ্গে কাশ্মীরের বাসিন্দারা কতটা একাত্ম বোধ করছে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে তাদের এই দানের মধ্য দিয়ে।
সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বও এগিয়ে এসেছে। বদগামের স্থানীয় এমএলএ মুনতাসির মেহদি এই সংকটময় সময়ে ইরানের জনগণের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ত্রাণ সহায়তার অংশ হিসেবে তিনি নিজের এক মাসের পুরো বেতন দান করবেন।
শ্রীনগরের রাইনাওয়ারির এক বাসিন্দা আইজাজ আহমেদ বলেন, ইরানে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া অবৈধ যুদ্ধে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। সভ্য বিশ্ব অন্তত যা করতে পারে তা হল ইরানের দুর্ভোগে থাকা মানুষদের জন্য সাহায্য পাঠানো।
এনডিটিভি তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে সহায়তা করতে সাহায্য চেয়ে সোশাল মিডিয়ায় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করার পর থেকেই প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কাশ্মীরে দান হিসাবে সোনা, রূপা ও নগদ অর্থ জমা পড়তে শুরু করেছে।
এই দানের অর্থ ইরানি দূতাবাসসহ সরকারি ত্রাণ সংগঠনগুলোর মাধ্যমে সাহায্যের আশায় থাকা মানুষদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।