২২ মার্চ ২০২৬, ১০:০০

যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ৮০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি

যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি  © টিডিসি ফটো

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহেই প্রায় ৮০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এক যৌথ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) ও বিবিসির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্ষয়ক্ষতি আগের হিসাবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম সপ্তাহেই ইরানের ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলায় অধিকাংশ ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রেডারে হামলায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। একটি এএন/টিপিওয়াই-২ রেডার সিস্টেমের মূল্য প্রায় ৪৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৮০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘাঁটিতে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই স্থানে বারবার আঘাত হানার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সামরিক সম্পদ ধ্বংসের কৌশল নিয়েছে ইরান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিএসআইএস-এর ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা মার্ক কানসিয়ান বলেন, ‘অঞ্চলটিতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির খবর কমিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক বলে মনে হচ্ছে, তবে আরও তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষতির হিসাব জানা সম্ভব হবে না।’

এদিকে, এই হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করতে হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। সিএসআইএস-এর তথ্যমতে, প্রথম ১২ দিনেই যুদ্ধ ব্যয় ১,৬৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘আমরা ইরানে অত্যন্ত ভাল করছি।’ তবে বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও ক্ষয়ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

পেন্টাগন ইতোমধ্যে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ চেয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, ‘খারাপ লোকেদের খতম করতে অর্থের প্রয়োজন হয়।’

যুদ্ধের প্রভাবে প্রাণহানিও বেড়েছে। এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন হিসাবে মোট মৃতের সংখ্যা প্রায় ৩,২০০ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে।