হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়েছে ইউরোপ ও উপসাগরীয় দেশগুলো
বিশ্ব তেল পরিবহনের করিডোর খ্যাত ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রনালি পুনরায় স্বাভাবিক করার পক্ষে ক্রমান্বয়ে সরব হচ্ছে ইউরোপ ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো। শনি বা (২১ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানি সহ বেশ কিছু দেশ। খবর আল জাজিরার
বিবৃতিতে দেশগুলো ইরানকে হরমুজ প্রণালি ‘কার্যত বন্ধ’ করার জন্য অভিযুক্ত করেছে। একইসঙ্গে সব ধরনের হুমকি, মাইন স্থাপন এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দেশগুলো পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ‘অলঙ্ঘনীয়’।
দেশগুলো জানিয়েছে, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যেকোনো পদক্ষেপকে সমর্থন দেবে। পাশাপাশি, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা কর্তৃক কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে জ্বালানি ছাড় করার উদ্যোগকেও তারা স্বাগত জানিয়েছে তারা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়ার বিষয়ে ইরানকে দায়ী করেছেন লন্ডনভিত্তিক ‘কাউন্সিল ফর আরব-ব্রিটিশ আন্ডারস্ট্যান্ডিং’-এর পরিচালক ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক ক্রিস ডয়েল।
ডয়েলের মতে,হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব। এর ফলে ব্রিটেনে জ্বালানি সংকট এবং রেশনিং (নিয়ন্ত্রিত সরবরাহ) শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডাউনিং স্ট্রিট (ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) যে কোনো মূল্যে এই জলপথটি পুনরায় সচল করতে চায় এবং তাদের এই উদ্বেগের কারণটি সহজেই অনুমেয়।