দূর দেশে ঈদের অনুভূতি: ব্যস্ততার মাঝেও স্মৃতিতে রঙিন উৎসব
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৩ সালেই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গেছেন ৫২ হাজার ৭৯৯ জন শিক্ষার্থী। নতুন পরিবেশ, পড়াশোনা আর পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেই তাদের অনেককে উদযাপন করতে হয় মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর—প্রিয়জনদের ছেড়ে, দূর দেশের মাটিতে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আসিফ মোক্তাদিরও তাদেরই একজন। বর্তমানে তিনি একজন প্রাইমারি কেয়ার ফিজিশিয়ান অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কর্মরত। ব্যস্ত পেশাগত জীবনের পাশাপাশি নিজের একাডেমিক যাত্রাকেও এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। বায়োলজি থেকে শুরু করে পিএ স্টাডিজ শেষ করে এখন জনস্বাস্থ্য ও হেলথ পলিসি নিয়ে কাজ করছেন। সামনে সেপ্টেম্বর থেকে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক হেলথে পড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
তবে পেশাগত সাফল্যের এই যাত্রার মাঝেও ঈদ এলে তার মনে ভেসে ওঠে ভিন্ন এক অনুভূতি। তিনি বলেন, বিদেশে ঈদ মানেই এক ধরনের দ্বৈত অনুভূতি। পরিবার কাছে থাকলেও পুরো উৎসবের আবহটা ঠিকভাবে ধরা দেয় না। অনেক সময় ঈদের দিনেও আমাদের কারও না কারও কাজ থাকে কেউ হাসপাতালে, কেউ শিফটে। ফলে সবাই একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগটা সীমিত হয়ে যায়। ঈদের আনন্দটা তখন যেন ভেঙে ভেঙে আসে।
দেশের ঈদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতার পার্থক্য স্পষ্টভাবে টের পান আসিফ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ঈদের সকাল মানেই ছিল অন্যরকম একটা আবহ মসজিদে যাওয়ার পথে পরিচিত মানুষদের দেখা, নামাজ শেষে কোলাকুলি, বাড়িতে ফিরে সেমাইয়ের ঘ্রাণ। পুরো দিনটাই থাকত এক ধরনের আনন্দঘন ব্যস্ততা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে সেই চিত্রটা অনেকটাই ভিন্ন সবকিছু যেন একটু নিঃশব্দ, নিয়ন্ত্রিত, আর কম উচ্ছ্বাসপূর্ণ।
সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি তাকে নাড়া দেয়, তা হলো বন্ধুদের অভাব। ঈদের দিনে হুট করে প্ল্যান করা আড্ডা, সারাদিন একসঙ্গে সময় কাটানো এসব এখন শুধু স্মৃতি। ভিডিও কল বা মেসেজে যোগাযোগ হয় ঠিকই, কিন্তু সেই সরাসরি উপস্থিতি আর অনুভূতিটা আর পাওয়া যায় না বলেও জানান তিনি।
তবে দূরত্ব সত্ত্বেও ঈদের আনন্দ ধরে রাখার চেষ্টা থেমে নেই। পরিবার নিয়ে অল্প সময়ের জন্য হলেও একসঙ্গে বসা, দেশি খাবার রান্না করা কিংবা স্মৃতির পাতায় ফিরে যাওয়া এসব দিয়েই তৈরি হয় প্রবাসের ঈদ। আসিফ মনে করেন, ঈদ শুধু নতুন পোশাক বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের সম্পর্ক, ভালোবাসা আর স্মৃতির এক গভীর সংযোগ।
এ শিক্ষার্থী আরও বলেন, দূরে থেকেও আমরা চেষ্টা করি ঈদের সেই অনুভূতিটুকু ধরে রাখতে। কারণ শেষ পর্যন্ত স্মৃতিই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ, যা যেকোনো দূরত্ব পেরিয়েও ঈদের আলো জ্বালিয়ে রাখে।