১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬

ভারতের কাছে ৩ ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল ইরান

ট্যাংকার জাহাজ ফেরত চাইল ইরান  © রয়টার্স

হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজকে নিরাপদ চলাচলের সুবিধা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে ভারতের কাছে জব্দ করা তিনটি ট্যাংকার জাহাজ—অ্যাসফেল্ট স্টার, আল জাফজিয়া ও স্টেলার রুবি—ফেরত চেয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটির জনগণের জন্য জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর অনুরোধও জানিয়েছে তেহরান।

জব্দ জাহাজগুলোর মধ্যে স্টেলার রুবির মালিক ইরান, আর আল জাফজিয়া ও অ্যাসফেল্ট স্টার যথাক্রমে মালি ও নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী। বিধিবহির্ভূতভাবে জ্বালানি তেল পাচারের অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে আরব সাগরের ভারতীয় জলসীমা থেকে জাহাজ তিনটি আটক করে ভারতীয় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড। বর্তমানে সেগুলো মহারাষ্ট্রের মুম্বাই বন্দরে রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে পাকিস্তানের দৈনিক ডন জানিয়েছে, সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত জাহাজ তিনটি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ইরানের জন্য জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানোর আহ্বানও জানান তিনি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিতে ইরানি দূতাবাস ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট, যেখানে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে।

গত ২৮ তারিখ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে কড়াকড়ি আরোপ করে এবং বিভিন্ন দেশের ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও ঘটে। গত ১৫ দিনে অন্তত ১২টির বেশি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো ভারতীয় ট্যাংকার জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি নির্দেশ দিয়েছেন—হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় জাহাজে যেন হামলা না করা হয়।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রাহ্মনিয়াম জয়শঙ্কর বলেন, এটি কোনো গোপন বিষয় নয়, বরং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেই এমনটি হয়েছে।

এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ভারতের চারটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার জাহাজকে নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দিয়েছে ইরান। [সূত্র: রয়টার্স]