১৬ মার্চ ২০২৬, ২০:২২

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিশেষ অনুমতি পেল কোন কোন দেশ?

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল  © সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ১৬তম দিনে বিশ্ব তেলের বাজারের লাইফলাইন হরমুজ প্রণালি এখন ভূ-রাজনৈতিক দরকষাকষির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ইরান এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলেও, নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য সেফ প্যাসেজ বা নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা ওঠানামা করলেও ব্যারেল প্রতি দাম ১০০ ডলারের উপরেই থিতু হয়েছে। খবর আল জাজিরার

কোন কোন দেশ পার হওয়ার সুযোগ পেয়েছে?

পাকিস্তান

রবিবার পাকিস্তানের পতাকাবাহী ‘করাচি’ নামক একটি আফরাম্যাক্স ট্যাঙ্কার সফলভাবে প্রণালিটি পার হয়েছে। ওমান উপকূলে জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর এটিই ছিল অবরোধের পর প্রথম কোনো অ-ইরানি জাহাজের সফল যাত্রা।

ভারত

ভারতের জন্য বিশেষ ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা রেখেছে তেহরান। গত শনিবার ভারতের দুইটি এলপিজি বাহী ট্যাঙ্কার নিরাপদে এই পথ অতিক্রম করেছে। ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ফাতহালি জানিয়েছেন, বিশেষ বিবেচনায় ভারতীয় জাহাজগুলোকে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তুরস্ক

তুর্কি পরিবহন মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি তুর্কি মালিকানাধীন জাহাজ সেখানে অপেক্ষায় ছিল। এর মধ্যে একটি জাহাজকে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যেটি ইতঃপূর্বে ইরানের বন্দর ব্যবহার করেছিল।

নিরাপদ যাতায়াতের জন্য দরকষাকষি করছে যারা

চীন: বেইজিং বর্তমানে ইরানের সাথে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চীনের তেলের চাহিদার ৪৫ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে আসে। রয়টার্সের তথ্যমতে, কাতার থেকে এলএনজি  এবং অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপারের জন্য তেহরানের ওপর চাপ দিচ্ছে বেইজিং।

ফ্রান্স ও ইতালি: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপের এই দুই দেশ তাদের জাহাজের সুরক্ষার জন্য ইরানের সাথে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে মিত্র দেশ ছাড়া অন্যদের জন্য শর্ত বেশ কঠিন রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলার। কিন্তু গত ২ মার্চ আইআরজিসি প্রধানের উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি প্রণালিটি বন্ধ ঘোষণা করার পর দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। আজ সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৫ শতাংশ বেড়ে ১০৫.৭০ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

 এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, কারা পার হতে পারবে তা সম্পূর্ণ তাদের সামরিক বাহিনীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মূলত যেসব দেশ ইরানের সাথে সংহতি প্রকাশ করছে বা নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে, তাদের জন্য এই পথ শর্তসাপেক্ষে খোলা রাখা হচ্ছে।