১৬ মার্চ ২০২৬, ১৬:৫৯

হরমুজ প্রণালিতে ন্যাটোর ভূমিকা দেখছে না জার্মানি

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল  © সংগৃহীত

ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি অবরোধের প্রেক্ষিতে এই সংকট সমাধানে সামরিক জোট ন্যাটোর কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার প্রয়োজনীয়তা দেখছে না জার্মানি। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল আজ জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তার দায়িত্ব ন্যাটোর ওপর ন্যস্ত করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ওয়াডেফুল বলেন, ‘আমি দেখছি না যে ন্যাটো এই দিকে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব নিতে পারে। যদি তেমনটি হতো, তবে ন্যাটোর নীতিনির্ধারক সংস্থাগুলো যথাযথভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করত।’ 

তার এই মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চাপের মুখে একটি বড় কূটনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গতকালই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, যদি ইউরোপীয় মিত্ররা হরমুজ প্রণালি সচল করতে ওয়াশিংটনকে সাহায্য না করে, তবে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুবই খারাপ’ হতে পারে। ট্রাম্প সরাসরি দাবি করেছিলেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ইউরোপকে সাহায্য করেছে, বিনিময়ে ইউরোপের উচিত এখন মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটে এগিয়ে আসা। তবে জার্মানির এই অবস্থানের ফলে বোঝা যাচ্ছে, ইউরোপীয় শক্তিগুলো এখনই সরাসরি ন্যাটোর ব্যানারে এই দ্বন্দ্বে জড়াতে আগ্রহী নয়।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানানোর প্রেক্ষিতে সায় দেয়নি চীন। সোমবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে চীনের মুখপাত্র বলেন,‘চীন সব পক্ষকে অবিলম্বে তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করছে।’

তিনি জানান,‘বেইজিং মনে করে, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় এবং এটি কেবল সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতাকেই বাড়িয়ে তুলবে।

হরমুজ প্রণালীর বর্তমান অচলাবস্থা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে চীন কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মিত্র দেশগুলোকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করার চাপ দিচ্ছেন, তখন বেইজিং যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব দিয়ে সরাসরি কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার কথা বলছে।