ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকট যেভাবে ট্রাম্পের পতন ডেকে আনতে পারে
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার সাফল্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ আত্মবিশ্বাসী থাকলেও, ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প বিশ্বাস করেন যে ইসরায়েলের সাথে মিলে ইরানের পরমাণু হুমকি ধ্বংস করা গেলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে, কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
বিশ্লেষক এদুয়ার্দো পোর্টারের মতে, এই যুদ্ধটি সাধারণ মার্কিনিদের কাছে চরম অপ্রিয় এবং এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেভাবে লাফিয়ে বাড়ছে, তা দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জ্বালানি শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বনির্ভর হলেও বিশ্ববাজারের প্রভাব থেকে তারা পুরোপুরি মুক্ত নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই আমেরিকায় খুচরা গ্যালন প্রতি গ্যাসের দাম ৩.৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ট্রাম্পের মেয়াদে সর্বোচ্চ।
সরকারি সুত্র বলছে, তেলের এই উচ্চমূল্য ২০২৭ সালের আগে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। তেলের দাম বাড়লে ট্রাক পরিবহন, কৃষিপণ্য এবং বিমানের টিকিটের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়বে। এই অতিরিক্ত খরচ সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নামাতে পারে।
রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে ট্রাম্প বর্তমানে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। একদিকে তিনি ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দাবি করছেন, অন্যদিকে মার্কিন জনগণ এই প্রলম্বিত যুদ্ধের ঘোর বিরোধী। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আকাশপথে বোমা মেরে কোনো দেশকে ধ্বংস করা সহজ হলেও দীর্ঘ মেয়াদে সেই যুদ্ধে জয়ী হওয়া কঠিন। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বা বাসিজ বাহিনী এখনই অস্ত্র সমর্পণ করবে না, ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
ট্রাম্প যদি এই যুদ্ধ থেকে দ্রুত জয় নিয়ে ফিরতে না পারেন, তবে অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে তাকে রাজনৈতিক পরাজয়ের স্বাদ পেতে হতে পারে। ভেনিজুয়েলায় মাদুরোকে ধরা যতটা সহজ ছিল, ইরানের ক্ষেত্রে সেই একই কৌশল কাজ নাও করতে পারে। যুদ্ধের ব্যয় এবং তেলের উচ্চমূল্যের কারণে ফেডারেল রিজার্ভও সুদের হার কমাতে পারছে না, যা মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলছে।