১৫ মার্চ ২০২৬, ১৩:৪৪

এবার পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন রকেট লঞ্চারের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

রকেট লঞ্চারের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া  © এপি

একদিন আগে একযোগে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর এবার পারমাণবিক সক্ষম নতুন রকেট লঞ্চার সিস্টেমের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর চলমান বসন্তকালীন সামরিক মহড়ার মধ্যেই রবিবার এ পরীক্ষা চালানো হয়।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, দেশটির নেতা কিম জং উন মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমের পরীক্ষাটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় ৬০০ মিলিমিটার ক্যালিবারের ১২টি অতি-নির্ভুল মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়।

কিম জং উনের দাবি, এই পরীক্ষার মাধ্যমে পিয়ংইয়ংয়ের শত্রুরা ৪২০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংসাত্মক সক্ষমতা সম্পর্কে নতুন করে উপলব্ধি করতে বাধ্য হবে এবং এতে তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘অস্বস্তি’ তৈরি হয়েছে।

কেসিএনএ জানায়, পরীক্ষায় নিক্ষিপ্ত সব রকেট পূর্ব সাগরে অবস্থিত ৩৬০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের একটি দ্বীপের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এসব রকেট লঞ্চারকে কিম জং উন ‘অত্যন্ত প্রাণঘাতী অস্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বড় আকারের সামরিক যান থেকে একাধিক রকেট আকাশে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। অন্য একটি ছবিতে কিম জং উনকে তার মেয়ে জু আয়েসহ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূর থেকে উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জু আয়েকে নিয়ে কিম জং উনের উপস্থিতি বেড়েছে। অনেকের ধারণা, ভবিষ্যতে জু আয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বে আসতে পারেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, শনিবার উত্তর কোরিয়া থেকে পূর্ব সাগরের দিকে একাধিক উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়েছে। সিউলের ব্লু হাউস এই উৎক্ষেপণকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘনকারী উসকানি হিসেবে আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে এবং পিয়ংইয়ংকে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সেক কয়েক দিন আগে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন কিম জং উনের সঙ্গে তার একটি ‘ভালো’ বৈঠক হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন গত কয়েক মাস ধরে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছে এবং বছরের শেষ দিকে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের কথাও ভাবা হচ্ছে। [সূত্র: এএফপি]