কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ইরাকের এরবিলে তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইরাকের এরবিল শহরের একটি তেল শোধনাগারে পৃথক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর আল জাজিরা।
কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় রাডার সিস্টেমের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে এতে কোনো যাত্রী বা বিমানবন্দর কর্মী আহত হননি। অন্যদিকে, ইরাকের এরবিলে ড্রোন হামলার ফলে একটি শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজি বলেন, ‘কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার সিস্টেম লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সৌভাগ্যবশত, এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’ বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি না ঘটায় কর্তৃপক্ষ স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তবে এই হামলার উৎস সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
একই সময়ে রয়টার্সের তথ্যমতে, উত্তর ইরাকের এরবিল শহরের 'লানাজ' তেল শোধনাগারে একটি ড্রোন আঘাত হানলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এর ফলে শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ইরাকের আধা-স্বায়ত্বশাসিত কুর্দি অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন পুরোপুরি নেভানো এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ না করা পর্যন্ত শোধনাগারের কাজ বন্ধ থাকবে। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, গত শনিবার এই ড্রোনটি শোধনাগারটিতে আঘাত হানে। ধারাবাহিক এই হামলাগুলো পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি খার্গ দ্বীপে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। আরাগচি দাবি করেন, মিসাইলগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের কাছ থেকে ছোড়া হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পার্শ্ববর্তী একটি দেশ থেকে ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, ইরান এর পাল্টা জবাব দিতে পারে এবং এটি এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তবে তেহরানের যেকোনো পদক্ষেপ হবে আত্মরক্ষামূলক এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য।