যুদ্ধবাজ নেতাদের পাপস্বীকারের আহ্বান জানালেন পোপ
যেসব খ্রিষ্টান নেতা বিশ্বজুড়ে সংঘাত শুরুর পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন তাদেরকে পাপস্বীকার বা কনফেশনে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভ্যাটিকানে আয়োজিত এক সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান। পোপ বলেন, এই নেতাদের উচিত যিশুর শিক্ষা সঠিকভাবে অনুসরণ করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা।
নিয়মিত পাপস্বীকারের গুরুত্ব তুলে ধরে যাজকদের উদ্দেশে দেওয়া ওই ভাষণে পোপ অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট নেতা বা যুদ্ধের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘সশস্ত্র সংঘাতের জন্য যাদের ওপর গুরুতর দায়িত্ব বর্তায়, সেই খ্রিষ্টানদের কি নিজের বিবেক পরীক্ষা করার এবং কনফেশনে যাওয়ার মতো আত্মবিশ্বাস ও সাহস আছে?’
পোপ বলেন, যুদ্ধ শুরু করা খ্রিষ্টান নেতাদের উচিত পাপস্বীকার করা। এই ধর্মীয় আচারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত শুদ্ধি ঘটে এবং সমাজে শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক যুদ্ধের সূচনা হয়েছে। যেখানে ইরানের মিনাব শহরে একটি বালিকা স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী মারা গেছেন। যেটা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে তদন্ত শুরু করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পোপ লিও তার ভাষণে সরাসরি কোনো যুদ্ধ বা কোনো যুদ্ধবাজ নেতার নাম মুখে না নিলেও বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ঠিক কাদের উদ্দেশে তিনি এই কথা বলেছেন তা স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসবিটারিয়ান খ্রিষ্টান (প্রটেস্ট্যান্ট খ্রিষ্টধর্মের একটি শাখা) হিসেবে বেড়ে উঠেছেন। অন্যদিকে, তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী।
যিশুর অহিংসার নীতি অনুসরণ করে ক্যাথলিক চার্চ সাধারণত যুদ্ধের বিরোধিতা করে থাকে। তবে শতাব্দীকাল ধরে চার্চ ‘জাস্ট ওয়ার’ বা ন্যায়সংগত যুদ্ধের ঐতিহ্য অনুসরণ করে আসছে। এই নীতি অনুযায়ী কোনো সংঘাত নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য কি না, তা যাচাই করা হয়। যেমন—কোনো অন্যায্য আক্রমণ প্রতিহত করা।