রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
ইরানে দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব বাজারে তেলের যোগান স্বাভাবিক রাখতে রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বাংলাদেশ সময় এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, জাহাজে বোঝাই করা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রির জন্য বিশেষ অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন নিষেধাজ্ঞা তদারকি সংস্থা অফিস অফ ফরেন অ্যাসেট কন্ট্রোলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, ১২ মার্চ পর্যন্ত যেসব রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য জাহাজে লোড করা হয়েছে, সেগুলো ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববাজারে বিক্রি ও সরবরাহ করা যাবে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার জেরে রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এই নিষেধাজ্ঞা ছিল রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ার অংশ।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর অংশ হিসেবে রাশিয়ার তেলের ওপর অস্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের কারণে সৃষ্ট হুমকি ও অস্থিরতা মোকাবিলার লক্ষ্যেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তের এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত তেল মজুত থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৩ শর্তে যুদ্ধ থামাতে রাজি ইরান
এদিকে বুধবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) সদস্য দেশগুলোর সরকারি তেল মজুত থেকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিমাণ তেল ছাড়ার নির্দেশ দেয়। এতে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এই সরু সামুদ্রিক পথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে। আরব উপদ্বীপ ও ইরানের মাঝ দিয়ে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পরিবহন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং পারস্য উপসাগর ও এর বাইরের এলাকাতেও তাদের নৌবাহিনীর ওপর আক্রমণ করে। এসব হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা চালায়। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য ও ককেশাস অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে নির্বিচারে হামলা চালানোর অভিযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় তেহরান।
তবে এসব পরিস্থিতির মধ্যেও ইরান নিজেদের তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেলের মূল্য আরও বেড়ে গেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস