ইরান যুদ্ধ রাশিয়ার যুদ্ধকালীন অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট রাশিয়ার যুদ্ধকালীন অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায় তেল ও গ্যাস রপ্তানি থেকে রাশিয়ার আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। খবর বিবিসি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়া এবং এর ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়া সরাসরি সুবিধা পাচ্ছে। একই সঙ্গে রুশ তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল হওয়ায় দেশটির রপ্তানি আয় বাড়ছে।
থিঙ্ক ট্যাংক সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ পর থেকে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫১০ মিলিয়ন ইউরো আয় হচ্ছে। এটি ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির দৈনিক গড় আয়ের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।
সংস্থাটির বিশ্লেষক বৈভব রঘুনান্দন মনে করেন, এই আয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার মতে, ইউক্রেন আক্রমণের কারণে রাশিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি করেছিল, জ্বালানি খাত থেকে বাড়তি আয়ের ফলে সেই ক্ষতি ধীরে ধীরে পুষিয়ে যাচ্ছে।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রঘুনান্দন বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে হঠাৎ করেই রাশিয়ার প্রচুর মুনাফা হয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে এটি আরও বাড়বে। এই সংকট যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, রাশিয়ার জন্য ততই মঙ্গল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেনকে যারা সমর্থন দিচ্ছে তাদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। কারণ এই বাড়তি আয় রাশিয়ার (যুদ্ধের) জন্য অক্সিজেনের মতো কাজ করবে।’
সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশই আসে তেল ও গ্যাস খাত থেকে, যা দেশটির যুদ্ধকালীন অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।