১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:২০

তেলের দাম বাড়ায় পাকিস্তানে দুই সপ্তাহ স্কুল বন্ধ ঘোষণা

শিক্ষার্থী  © সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি ব্যবহার কমানো ও সরকারি ব্যয় হ্রাসে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহ থেকে দেশটির সব স্কুল দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন ক্লাস চালু করা হবে। খবর রয়টার্সের

সোমবার জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সরকারি দপ্তরগুলোতে দুই মাসের জন্য জ্বালানি ভাতা ৫০ শতাংশ কমানো হবে। এছাড়া বাস ও অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সরকারি যানবাহনের ৬০ শতাংশ সাময়িকভাবে চলাচল বন্ধ রাখা হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় সেবা ছাড়া সরকারি দপ্তরগুলোতে মাত্র ৫০ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসে কাজ করবেন, বাকিরা ঘরে বসে কাজ করবেন। একই সঙ্গে সরকারি অফিস সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে।

সরকারি ব্যয় কমাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের খরচ ২০ শতাংশ কমানো, নতুন গাড়ি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও আসবাবপত্র কেনা বন্ধ রাখা এবং মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের অধিকাংশ বিদেশ সফরে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৫৫ রুপি বাড়ানো হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে একবারে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাকিস্তান তার জ্বালানির অধিকাংশই আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশটির মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বৈশ্বিক দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশটির নীতিগত সুদের হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।