এক বছর আগেই পাস, ফরম পূরণ করতে এসে জানল এক ছাত্র
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মুশুলী ডিগ্রি কলেজে এক বছর আগে এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া এক ছাত্র পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ফরম পূরণ করতে এসে জানতে পেরেছেন তিনি আসলে পাস করেছেন। গত রবিবার দুপুরের পর কলেজের অফিস কক্ষে ফরম পূরণের টাকা ও তথ্য যাচাই করতে গিয়েই বেরিয়ে আসে তার পাসের মূল সনদের খবর। এই অভাবনীয় ঘটনায় শিক্ষার্থী তৌহিদ মিয়া ও তার পরিবারসহ কলেজ প্রাঙ্গণে আনন্দের জোয়ার বইছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তৌহিদ মিয়া গত বছর মুশুলী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। ফল প্রকাশের পর অনলাইনে তথ্য দেখে তিনি জানতে পারেন যে, একটি বিষয়ে তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। এরপর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও দমে না গিয়ে এক বছর ধরে ওই বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কঠোর প্রস্তুতি নিতে থাকেন তিনি। পরিবারের সবাই এবং আত্মীয়-স্বজনরাও জানতেন তৌহিদ এক বিষয়ে ফেল করেছেন। সেই লক্ষ্যেই রবিবার দুপুরে ফরম পূরণের টাকা নিয়ে কলেজে হাজির হন তিনি।
তবে ভাগ্য বদলে যায় কলেজের অফিস সহকারী হেলাল উদ্দিনের কাছে গিয়ে। ফরম পূরণের জন্য তৌহিদের তথ্য ও নথিপত্র ঘাটতে গিয়ে হেলাল উদ্দিন হঠাৎ দেখতে পান, তৌহিদের নামে গত বছরের এইচএসসি পাসের একটি মূল সার্টিফিকেট অফিসে জমা হয়ে আছে। অর্থাৎ তৌহিদ আসলে ফেল করেননি, বরং গত বছরই তিনি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। অনলাইনে ভুল তথ্য দেখার কারণে দীর্ঘ এক বছর তিনি নিজেকে অকৃতকার্য ভেবে মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন।
নিজের পাসের খবর শোনার পর তৌহিদ মিয়া জানান, 'আমি গত বছর মুশুলী ডিগ্রী কলেজ থেকে এইসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিই। পরে ফল প্রকাশ হলে অনলাইনে তথ্য ঘেটে জানতে পারি আমি এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছি। পরিবার সহ আত্মীয় স্বজনরা অকৃতকার্যের বিষয়টা জানতো। এজন্য আমি এক বছর পড়াশোনা করে আবার এক বিষয়ে পরিক্ষা দেওয়ার জন্য ফরম পূরণ করতে পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জমা দেওয়ার জন্য কলেজে আসি। তখন আমার তথ্য ঘাটতে গিয়ে অফিস সহকারী হেলাল উদ্দিন স্যার আমার সার্টিফিকেটটি খোঁজে পায়।'
বিস্ময়কর এই প্রাপ্তি সম্পর্কে কলেজের অফিস সহকারী হেলাল মিয়া বলেন, 'তৌহিদ ফরম পূরণ করতে রবিবার দুপুরে কলেজে আসে। এক পর্যায়ে আমি কাগজপত্র খোঁজতে গিয়ে তার আগের বছর এইচএসসি পাসের মূল সার্টিফিকেট খউজে পাই।'
এই আনন্দঘন মুহূর্ত নিয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল হক বলেন, 'তৌহিদ আমার কলেজের শিক্ষার্থী। সে ফরম পূরণ করতে এসে হঠাই জানতে পারে আগের বছর পাস করেছে। বিষয়টি শুনে আমরা সবাই আনন্দিত হয়েছি।' পাসের সার্টিফিকেট হাতে পাওয়ার পর তৌহিদ মিয়া এবং তার পরিবার এখন উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ভাবছেন।