মোজতবা খামেনিকে পূর্ণ সমর্থন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত মোজতবা খামেনির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও আনুগত্য প্রকাশ করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী নতুন নেতা মোজতবা খামেনিকে ‘ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানবান... ধর্মপ্রাণ এবং বিচক্ষণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য নির্বাচিত করার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাদের ‘বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে’।
একইসঙ্গে দেশটির সমান্তরাল শক্তিশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নতুন এই নেতাকে অভিনন্দন জানিয়ে তার প্রতি তাদের ‘অকুণ্ঠ ও আজীবন আনুগত্য’ ঘোষণা করেছে।
গতকাল রবিবার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তাকে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো নেতা নির্বাচন করল। মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে এই পদে স্থলাভিষিক্ত হবেন।
ইরানের ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ দেশটির সংবিধান অনুযায়ী নতুন এই সর্বোচ্চ নেতাকে বেছে নিয়েছে। এর আগে তিন দশকেরও বেশি সময় আগে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলী খামেনিকে দ্রুততার সঙ্গে নির্বাচন করা হয়েছিল। বর্তমান নবনির্বাচিত নেতা মোজতবা খামেনেনি সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় সন্তান।
উল্লেখ্য যে, মোজতবা খামেনি প্রচলিত অর্থে কোনো উচ্চপদস্থ ধর্মীয় নেতা নন। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তৎকালীন মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ ছিল, মোজতবা তার বাবার আঞ্চলিক লক্ষ্য পূরণ এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন কার্যক্রমে আইআরজিসি-কুদস ফোর্স ও বাসিজ বাহিনীর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।