০৭ মার্চ ২০২৬, ১১:১৬

যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ধ্বংস করল ইরান

মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ রাডার ধ্বংস করেছে ইরান  © সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুমূল্যবান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ধ্বংস করেছে ইরান। প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই রাডারটি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ ও সিএনএন এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই খবর নিশ্চিত করেছে।

বাণিজ্যিক উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে স্থাপিত উচ্চ উচ্চতার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার (THAAD সংক্রান্ত) রাডার ও এর সহায়ক সরঞ্জামগুলো ইরানি হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চ জর্ডানে ইরান দুটি বড় ধরনের হামলা চালায়। প্রাথমিকভাবে হামলা প্রতিহত করার দাবি করা হলেও পরে রাডার ধ্বংসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস’-এর উপপরিচালক রায়ান ব্রবস্ট বলেন, ‘এই হামলা সফল হয়ে থাকলে এটি ইরানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সামরিক সাফল্য।’ এই রাডারটি বায়ুমণ্ডলের প্রান্তে থাকা জটিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহতে ব্যবহৃত হতো। এটি অকেজো হওয়ায় এখন যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যেখানে উন্নত প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগে থেকেই সীমিত। 

আরও পড়ুন: বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে এফবিআই, নেপথ্যে কী?

এর আগে কাতারে অবস্থিত ১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আরেকটি সতর্কতামূলক রাডারও ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডান, কাতার ও বাহরাইনের যোগাযোগ কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ইরান মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘চোখ’ বা সেন্সর নেটওয়ার্ককে অকেজো করার সুপরিকল্পিত চেষ্টা চালাচ্ছে।

ইরানের লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স-এর মতো বৃহৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানান, উন্নত শ্রেণির অস্ত্রের উৎপাদন চারগুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত সর্বোচ্চ মজুত নিশ্চিত করা যায়।

তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সির তথ্য ও বিভিন্ন সামরিক অনুমান অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে নামার পর যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে পুনর্মোতায়েন করার বিষয়ে সিউল ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন।