০৫ মার্চ ২০২৬, ১৯:১১

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে ইউরোপ

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে ইউরোপ   © সংগৃহীত

ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর কয়েকদিন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলেও এবার সরব হচ্ছে ইউরোপ। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি ও অস্ট্রেলিয়া। আর একদিন আগেও যুদ্ধকে ‘না’ বললেও আজ তারা সাইপ্রাসে মাঝারি রণতরি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন,খবর আল জাজিরাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের।

বৃহস্পতিবার কিছুটা সরব হয়েই ফ্রান্স, ইতালি ও গ্রিস যৌথভাবেই সাইপ্রাসে সামরিক সরঞ্জামাদি মোতায়েন সমন্বয় করছে। যেখানে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সাইপ্রাসে ইরানি হামলা মোকাবিলায় সেখানে সামরিক সহায়তা পাঠানোর ব্যাপারে ম্যাক্রোঁ ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কাইরিয়াকোস মিটসুটাসিসের সঙ্গে ফোনালাপও সেরেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে গার্ডিয়ান।

সূত্রটি আরও জানায়, তিন নেতা মিলে লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও সম্মত হয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় খুব শীঘ্রই তিন দেশ অপােরেশন এসপেডিস নামে সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে যাচ্ছে। যার লক্ষ্য লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। 

অন্যদিকে একদিন আগেও যুদ্ধ না চাওয়ার ঘোষণা দেওয়া স্পেন সাইপ্রাসে নিজেদের সবচেয়ে মাঝারি রণতরি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ক্রিস্তোবাল কোলোন’ নামের যুদ্ধজাহাজটি ফরাসি বিমানবাহী রণতরি চার্লস দো গল এবং গ্রিসের নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ও সুরক্ষা দেবে। প্রয়োজনে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ করবে। আর এদিকে বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হেলির সাইপ্রাস সফর করার কথা আছে।

নিজেদের বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ‘অস্থায়ীভাবে’ অবস্থান করার অনুমতি দিয়েছে ফ্রান্স, এমনটি জানিয়েছেন ফরাসি যৌথ প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা। এই সিদ্ধান্ত এমন সময় নেওয়া হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্রান্স শর্ত দিয়েছে যে সংশ্লিষ্ট সামরিক সম্পদগুলো যেন কোনোভাবেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত অভিযানে অংশ না নেয়। এগুলো কেবল অঞ্চলে আমাদের অংশীদারদের প্রতিরক্ষা সহায়তার জন্যই ব্যবহৃত হবে।’

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে প্রথমবারের মতো সরব হতে দেখা গেছে ট্রান্স আটলান্টিক সামরিক প্রতিরক্ষা জোট (ন্যাটো) প্রধান মার্ক রুটেকে । ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির ওপর কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, গতকালের সেই ঘটনাটি—যেখানে তুরস্কের আকাশসীমার দিকে এগিয়ে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করে—এটি ‘গুরুতর’ ছিল। তবে তিনি যোগ করেন,‘কেউই এখন আর্টিকেল ফাইভ নিয়ে কথা বলছে না।’

ন্যাটোর আর্টিকেল ফাইভ অনুযায়ী, জোটের কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাটি ন্যাটোর সতর্কতা ও প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। রুটের মতে, ইরানের পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কীভাবে গড়াবে তা মূল্যায়ন করা কঠিন, তবে তার ধারণা যুক্তরাষ্ট্র জানে তারা কী করছে।