০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:৩০

৪ দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা দেবে না যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের পতাকা   © সংগৃহীত

চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। 

বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদানের শিক্ষার্থীদের ভিসা দেবে না। এ ছাড়া আফগান নাগরিকদের জন্য কর্মভিসাও স্থগিত করে দেবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থী ভিসায় আসা শিক্ষার্থীদের আশ্রয় প্রার্থনার সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো জরুরি ভিত্তিতে চারটি দেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করতে হচ্ছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, মিয়ানমার ও সুদান থেকে আসা শিক্ষার্থীদের আশ্রয়ের আবেদন ৪৭০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, ‘যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের সব সময়ই আশ্রয় দেবে যুক্তরাজ্য। তবে আমাদের ভিসাব্যবস্থার অপব্যবহার হতে দেওয়া যাবে না। এ কারণেই আমি নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। যেসব দেশের নাগরিক আমাদের উদারতার সুযোগ নিতে চাইছে, তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হবে।’

অভিবাসন এখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে একটি বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে কট্টর ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকে জনমত জরিপে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

অভিবাসন ইস্যুতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা জনগণকে শান্ত করতে এবং কট্টর ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের উত্থান ঠেকাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার আশ্রয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে। অবৈধভাবে দেশে প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদার করেছে তারা।

যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (পিএ) বলেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিবাসন বিধিমালায় পরিবর্তনের মাধ্যমে ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে। একই দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আশ্রয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা নিয়ে একটি ভাষণ দিতে পারেন।

পিএ–র তথ্য অনুযায়ী, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের শরণার্থী মর্যাদা প্রতি ৩০ মাস পরপর পুনর্বিবেচনা করা হবে। অনেকেই মনে করছেন, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য দেশটিকে কম আকর্ষণীয় করে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০২৫ সালে শিক্ষার্থীভিত্তিক আশ্রয়ের আবেদন ২০ শতাংশ কমানো গেলেও আরও পদক্ষেপ দরকার। কারণ, এখনো আশ্রয় চাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা মোট আশ্রয় চাওয়া মানুষদের সংখ্যার ১৩ শতাংশ।