০২ মার্চ ২০২৬, ১০:৪০

লেবাননে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষ

লেবানন  © সংগৃহীত

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির নির্দেশের পর লেবাননে আজ সকাল থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন। শুধু দক্ষিণ লেবানন নয়, রাজধানী বৈরুতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। রমজানের ভোরে যখন সেহরির প্রস্তুতি নেওয়ার কথা, তখন বহু পরিবারের সকাল শুরু হয়েছে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তায়। খবর আল জাজিরা। 

শহরের দাহিয়েহ শহরতলির যে এলাকায় ইসরায়েল বাস্তুচ্যুতির আদেশ জারি করেছে, সেখানে লক্ষ লক্ষ লোক বাস করে। এলাকাটি হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত। এখানকার মানুষ যা যা পারা যায়, সেগুলো গুছিয়ে নিচ্ছে এবং নিরাপদ এলাকা বলে মনে করে সেখানে যাচ্ছে। কারও হাতে ছোট ব্যাগ, কারও কোলে শিশু, কেউ বৃদ্ধ মা বাবাকে নিয়ে রওনা হয়েছেন অজানা গন্তব্যে।

এর আগে সোমবার (২ মার্চ) রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে তেহরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর পরপরই লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা শুরু হয়।

ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর প্রজেক্টাইল ফায়ারের জবাবে তাদের স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ এবং লেবানন ও এর জনগণের প্রতিরক্ষার জন্য ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

২০২৪ সালের শেষ যুদ্ধের সময় এবং এরপরও দাহিয়েহ এলাকায় বেশ কয়েকবার হামলা হয়েছে। ওই বছরের নভেম্বরে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। কিন্তু তা ছিল একতরফা। ইসরায়েল সেই চুক্তিকে সম্মান করেনি এবং আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, হিজবুল্লাহকে অস্ত্র তৈরির অভিযোগ এনেছে এবং লেবাননের রাষ্ট্রকে দলটিকে নিরস্ত্র করার জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ এনেছে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম ইসরায়েলে হামলার কথা স্বীকার করেছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানায়, প্রথমে বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী, পরে তা দেশের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন, ইসরায়েলের ওপর হামলা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সন্দেহজনক। হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, তার সরকার দুর্বৃত্তদের থামাতে এবং লেবাননের জনগণকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।