০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪১

ইরান যুদ্ধে সেনা হতাহতের খবর স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের হামলা   © সংগৃহীত

ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনা হতাহতের খবর স্বীকার করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সময়ে প্রকাশিত একটি নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির ওপর হামলার প্রতি মাত্র প্রতি চারজনে একজন মার্কিন নাগরিক সমর্থন জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স।

রবিবার শেষ হওয়া রয়টার্স/ইপসোস-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ২৭% আমেরিকান এই হামলা সমর্থন করেছেন, যখন ৪৩% উত্তরদাতা সমর্থন করেনি এবং ২৯% নিশ্চিত নন। প্রতি ১০ জন উত্তরদাতার মধ্যে প্রায় ৯ জনই হামলা সম্পর্কে অন্তত সামান্য শুনেছেন।

সংঘাত দ্বিতীয় দিনে গড়ানোর পর ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৪৮ জন ইরানি নেতা নিহত হয়েছেন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের নৌবাহিনীকে ডুবিয়ে দিতে শুরু করেছে। এ পর্যন্ত ইরানের নয়টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এবং 'বাকিগুলোর খোঁজে' অভিযান চলছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত শনিবার ট্রাম্প বড় ধরনের যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে মার্কিন বিমান ও যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের ১,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এই হামলার মধ্যে বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান দ্বারা ইরানের সুসংরক্ষিত ও ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ২,০০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে ইরানের পাল্টা হামলাও ক্ষয়ক্ষতি শুরু করেছে। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী শনিবার কোনো হতাহতের খবর দেয়নি, তবে রবিবার জানিয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে তিনজন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আরও কয়েকজন মার্কিন সেনা সামান্য স্প্লিন্টারের আঘাতে জখম এবং বিস্ফোরণের ধাক্কায় আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের ঘটনাটি ঠিক কোথায় বা কীভাবে ঘটেছে, তা তারা প্রকাশ করেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক সদস্যরা কুয়েতের একটি ঘাঁটিতে নিহত হয়েছেন।

গত বছর ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর এই প্রথম কোন সামরিক অভিযানে নিহতের ঘটনা ঘটল। হতাহতের খবর নিশ্চিত করে ট্রাম্প মার্কিন জনগণকে আরও ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বোমা হামলা এবং জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর তুলে নেওয়ার ঘটনায় কোনো মার্কিন প্রাণহানি হয়নি।

এক ভিডিও ভাষণে ট্রাম্প এই মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশ করেন, তবে যোগ করেন যে, 'দুঃখজনকভাবে, এটি শেষ হওয়ার আগে সম্ভবত আরও হতাহতের ঘটনা ঘটবে।'

তিনি বলেন, 'কিন্তু আমেরিকা তাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবে এবং যারা কার্যত সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, সেই সন্ত্রাসীদের সবচেয়ে কঠোর আঘাত হানবে।'

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইকেল ওয়াল্টজ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন: 'স্বাধীনতা কখনোই বিনামূল্যে পাওয়া যায় না।'