ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ‘বেঁচে নেই': নেতানিয়াহু
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ‘বেঁচে নেই’—এমন দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শনিবারের ভয়াবহ বিমান হামলার পর খামেনির মৃত্যু হয়েছে এবং তার মরদেহ পাওয়া গেছে বলে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে ইরান সরকার এ দাবি অস্বীকার করেছে এবং একে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, 'ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ‘বেঁচে নেই’— এমন লক্ষণ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।' ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
তবে নেতানিয়াহু ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শনিবার সকালে তেহরানের ওপর দিয়ে ধারণ করা কিছু স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করেছে বিবিসি ভেরিফাই। ওই ছবিগুলোতে দেখা গেছে, ইরানি রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত খামেনির দফতর বা ‘লিডারশিপ হাউস’-এর একটি অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে। তিনি তার প্রাসাদের কমাউন্ডে প্রাণ হারিয়েছন। সেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ইরানি উদ্ধারকারীরা।
শনিবার সকালের দিকে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে বড় হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস পরবর্তীতে স্যাটেলাইটের একটি ছবি প্রকাশ করে। এতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি। তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন—সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
খামেনির অবস্থা সম্পর্কে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তার জানামতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ‘বেঁচে আছেন’।
অন্যদিকে, Iran International নিশ্চিত করেছে যে শনিবারের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। একই দিনে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের অন্তত চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। শনিবারের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানি নিহত হয়েছেন এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর কয়েকজন কমান্ডারও নিহত হয়েছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। জাতীয় পুলিশ ও নৈতিকতা পুলিশ তার নিয়ন্ত্রণে। তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং এর স্বেচ্ছাসেবী শাখা বাসিজ রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের ওপর কর্তৃত্ব রাখেন, যা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ভিন্নমত দমনে ব্যবহৃত হয়।