২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩৭

এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে হিলারি ক্লিনটনকে জেরা কংগ্রেস কমিটির

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন  © টিডিসি ফটো

প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের চ্যাপাকুয়ায় কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির কাছে টানা সাত ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি জানান, এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়েছে বলে তিনি মনে করতে পারছেন না। একই সঙ্গে এই ধনাঢ্য অপরাধীর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দেওয়ার মতো কোনো তথ্যও তাঁর কাছে নেই বলে তিনি কমিটিকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।

কমিটির জেরা শেষে হিলারি ক্লিনটন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এপস্টিনের সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়েছে বলে মনে পড়ে না। আমি কখনো তাঁর উড়োজাহাজে চড়িনি বা তাঁর দ্বীপ, বাড়ি অথবা অফিসে যাইনি।’ তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন যে, সারাদিন তাঁকে বারবার একই প্রশ্ন করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে তাঁকে ইউএফও ও ‘পিৎজাগেট’–সংক্রান্ত জঘন্য ও বানোয়াট ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়েও প্রশ্ন করা হয়, যা তাঁর মতে অত্যন্ত অস্বাভাবিক। হিলারি মনে করেন, রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন এই কমিটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক থেকে মানুষের নজর সরানোর চেষ্টা করছে।

শুনানি চলাকালীন হিলারি ক্লিনটন আরও উল্লেখ করেন যে, তাঁর স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন আজ শুক্রবার কমিটির কাছে জবানবন্দি দেবেন। স্বামীর বক্তব্যের বিষয়ে আগাম ধারণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী আগামীকাল ঠিক এই সাক্ষ্যই দেবেন যে, ২০০৮ সালে অপরাধ স্বীকার করার আগে এপস্টিনের সংস্পর্শে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁর এই যৌন পাচার সম্পর্কে জানতেন না।’ উল্লেখ্য, বিল ক্লিনটন ২০০০-এর দশকের শুরুতে এপস্টিনের বিমানে ভ্রমণ করলেও কোনো ধরনের অন্যায়ের কথা অস্বীকার করে আসছেন।

কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার এই তদন্তকে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বলতে নারাজ। তিনি জানান, ক্লিনটন দম্পতির দাতব্য কাজে এপস্টিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না এবং কারাবন্দী সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না—তা জানাই কমিটির মূল লক্ষ্য। এদিকে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা পাল্টা অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এপস্টিন-সংক্রান্ত ৩০ লাখ নথিপত্রের মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকিয়ে রাখছে। সব মিলিয়ে জেফরি এপস্টিন ইস্যুতে মার্কিন রাজনীতির দুই শীর্ষ পরিবারের ওপর কংগ্রেসের এই তদন্ত কার্যক্রম নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।