দেড় বছর পর ফের চালু হলো আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিস
দীর্ঘ ১৮ মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার কমলাপুর বিআরটিসি বাস ডিপো থেকে ‘রয়্যাল মৈত্রী’র একটি বাস ৯ জন যাত্রী নিয়ে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় প্রবেশ করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দীর্ঘমেয়াদী ভিসা জটিলতার কারণে এই আন্তর্জাতিক রুটটিতে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দুই দেশের মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে এই পরিষেবা পুনরায় চালু করা হয়েছে। আপাতত সপ্তাহে দুই দিন বাস চলাচল করবে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত এই বাস পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
এ বিষয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের উপপরিদর্শক শরীফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে চালক ও স্টাফসহ ৯ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি ইমিগ্রেশনে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরের দিকে বাসটি ভারতের আগরতলায় প্রবেশ করে। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি সফলভাবে একটি পরীক্ষামূলক মহড়া সম্পন্ন করে বাসটি ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ফিরে এসেছিল।
এদিকে বাস পরিষেবা ফের চালু হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। রাজ্য সরকারের পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী দুপুরে রাজ্যের গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হয় এবং উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়। এ বাস পরিষেবা শুধুমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম নয় বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন। যা শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
তিনি আরও জানান, এ পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ায় দুদেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলেও আশাবাদী তিনি।