২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১৬

ভারতে মুসলিম যুবককে মারধরের ভিডিও ভাইরাল, যা জানা গেল 

আব্দুল সালামকে মারার জন্য হাত তুলেছেন অভিযুক্ত অক্ষয় শর্মা   © সংগৃহীত

বিশ্বের ‘বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ’ হিসেবে পরিচিত ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন ঘটনা এখন অনেকটাই নিয়মিত। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের বুদাউনে জেলার রুদায়ন এলাকায় এক বৃদ্ধসহ তিনজন মুসলিম পুরুষকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফলে দেশটিতে সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনজন প্রবীণ মুসলমানকে বিনা কারণে মারধর করছেন এক হিন্দু যুবক। বিবিসির বরাতে জানা গেছে ১৬ ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের বুদাউনে জেলার রুদায়ন এলাকায় চাঁদা সহায়তা তুলতে যান একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল সালাম, তার সঙ্গে ছিলেন আরিফ আর জাবেদ। সেখানেই এক হিন্দু যুবকের হাতে মারধরের শিকার হন তারা।  

মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল সালাম জানান, ‘ঘটনা ১৬ই ফেব্রুয়ারির। আমার দুই সঙ্গী আরিফ আর জাভেদকে নিয়ে রুদায়ন এলাকার ইসলামনগর থানা অঞ্চলে গিয়েছিলাম সাহায্য তুলতে। এক যুবক পিছন থেকে এসে আমাদের আধার কার্ড দেখতে চাইল। এরপরেই সে আমাদের ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে, মারধর করে। মাথার টুপিও খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বলছিল যে আমরা চোর।’

এ ঘটনার পর ১৯শে ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত ইসলামনগর এলাকার বাসিন্দা অক্ষয়কে গ্রেফতার করে হেফাজতে পাঠায় পুলিশ। তবে দুইদিন পর জামিনে ছাড়া পান অক্ষয়। বিবিসি জানিয়েছে পুলিশের কর্মকাণ্ডে অখুশি আব্দুল সালাম। তার দাবি,‘আমাদের ধর্ম তুলে কটু কথা বলা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ করার চেষ্টা হয়েছিল, তবুও যে-সব ধারায় অভিযোগ দায়ের করা উচিত ছিল, পুলিশ তো তা করে নি। সেজন্য তো দ্রুত জামিন পেয়ে গেল। আমরা ঝগড়া বিবাদ চাই না, তবে ন্যায় বিচার তো পাওয়া উচিত।’

অভিযুক্ত অক্ষয় নিজেকে বজরং দলের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামনগর থানা পুলিশ। অন্যদিকে বদায়ুঁর সহসওয়ান এলাকা থেকে সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক ব্রজেশ ইয়াদভ বিবিসিকে জানিয়েছেন, ‘অক্ষয় শর্মা গো-রক্ষা মিশন সংগঠনের জেলা সভাপতি। তার একটা নিয়োগপত্র আমার কাছেই আছে। এই ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমি সিনিয়র পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি।’

ভারতে মুসলিম নির্যাতনের ঘটনাগুলো রমজান মাস আসলে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। ২০২৫ সালে মিডল ইস্ট আ্ই’য়ে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে রমজান মাসকে ভারতীয় মুসলিমদের ভয়ের হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোথাও না কোথাও আবার এমন খবর প্রকাশিত হবে যেখানে মুসলিমদের জোর করে হিন্দু জাতীয়তাবাদী স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, অথবা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একজন রাজনীতিবিদ ইসলামের অনুসারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করছেন অথবা ইফতার মাহফিলে আক্রমণ করা হচ্ছে।

সেখানে আরো বলা হয়েছে, আজানের সময়ও জনতার চিৎকার, বুলডোজারের গর্জন এবং জানাজার শব্দ শোনা যায়। কোথাও আবার আরেক মুসলিমকে গ্রেপ্তার, মারধর বা হত্যা করা হচ্ছে। মসজিদের গেটে ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বাড়িও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে-এসবই ভারতে রমজানের চিরচেনা চিত্র হয়ে উঠেছে কয়েক বছর ধরে।  

বিবিসি জানাচ্ছে, ভারতে বর্তমান বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। ২০১৪ সাল থেকে মুসলমানদের গরুর মাংস খাওয়া ও বাড়িতে রাখার অপরাধে পিটিয়ে হত্যা করার মতো ঘটনাও একাধিকবার ঘটেছে দেশটিতে। 

সম্প্রতি রাজ্যসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে চলমান ভোটারতালিকা হালনাগাদ (এসআইআর) কার্যক্রমে ঠুনকো কারণেও মুসলমানদের বাদ দেওয়ার একাধিক ঘটনা জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো।