পুরো মধ্যপ্রাচ্য দখলের ‘অধিকার’ ইসরায়েলের আছে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, পুরো মধ্যপ্রাচ্য—অথবা অন্তত এর সিংহভাগ—দখল করার ‘বাইবেলসম্মত অধিকার’ ইসরায়েলের রয়েছে। সাংবাদিক টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে হাকাবি বলেন, ‘তারা যদি পুরোটা নিয়েও নেয়, তাতেও সমস্যা নেই।’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তা এবং আরকানসাসের সাবেক গভর্নর হাকাবি সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও বাইবেলের পুরাতন নিয়মের ব্যাখ্যা নিয়েও কথা বলেন।
সম্প্রতি কার্লসন দাবি করেছিলেন, তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে এ দাবি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সাক্ষাৎকারে কার্লসন বাইবেলের একটি আয়াতের উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে—ঈশ্বর ইব্রাহিমকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার বংশধররা মিসরের নদী থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল লাভ করবে; যার মধ্যে কেনীয়, কেনিজ্জীয়, কদমোনীয়, হিত্তীয়, পেরিজ্জীয়, রেফায়ীয়, আমোরীয়, কানানীয়, গিরগাশীয় ও জেবুসীয়দের ভূমি অন্তর্ভুক্ত।
কার্লসনের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক ভূগোলের হিসাবে ওই প্রতিশ্রুত ভূখণ্ড প্রায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত। তিনি বলেন, লেভান্ট অঞ্চল—ইসরায়েল, জর্ডান, সিরিয়া ও লেবানন—এ ছাড়া সৌদি আরব ও ইরাকের বড় অংশও এর মধ্যে পড়ে।
জবাবে হাকাবি বলেন, ‘এটি কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে, তা আমি নিশ্চিত নই। তবে এটি বিশাল এক ভূখণ্ড হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল এমন একটি ভূখণ্ড, যা সৃষ্টিকর্তা ইব্রাহিমের মাধ্যমে তার নির্বাচিত এক জনগোষ্ঠীকে দিয়েছেন। এখানে ছিল একটি জনগোষ্ঠী, একটি স্থান এবং একটি উদ্দেশ্য।’
এ সময় কার্লসন জানতে চান, ওই ভূমির ওপর ইসরায়েলের অধিকার আছে কি না। জবাবে হাকাবি বলেন, ‘তারা যদি পুরোটা নিয়ে নেয়, সেটাই হবে সুন্দর।’
ইসরায়েল সফর শেষে কার্লসন অভিযোগ করেছিলেন, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে তিনি অস্বাভাবিক আচরণের শিকার হন। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত পাসপোর্ট পরীক্ষা ও নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়েই গেছেন। ওই সফরেই কার্লসন রাষ্ট্রদূত হাকাবির সাক্ষাৎকার নেন।
এদিকে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কার্লসনকে কটাক্ষ করেন। তিনি লেখেন, ‘পরের বার তিনি যখন নিজেকে ইসরায়েল বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করবেন, তখন মনে রাখবেন—এই লোকটি ভুয়া।’
হাকাবিও এক্সে দেওয়া পৃথক পোস্টে বলেন, ইসরায়েলে—এমনকি যেকোনো দেশেই—ভ্রমণকারীদের পাসপোর্ট পরীক্ষা ও নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশি করা হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টাকার কার্লসন ও তার সফরসঙ্গীদের আটক, বিলম্ব বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।