২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:২৫

গাজায় ‘স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীতে’ সেনা পাঠাবে পাঁচ দেশ

গাজায় ‘স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীতে’ সেনা পাঠাবে পাঁচ দেশ  © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে ‘শান্তি পর্ষদ’র প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ঘোষণা করা হয়েছে, গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন তহবিলে ৯টি দেশ মিলিতভাবে ৭০০ কোটি ডলার প্রদান করবে। পাশাপাশি গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের জন্য পাঁচটি দেশ সম্মতি দিয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ। ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া ওই বাহিনীতে সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নতুন বাহিনীর সংক্ষিপ্ত নাম দেওয়া হয়েছে আইএসএফ (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স)। এর ‘ভবিষ্যৎ’ কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স।

জেনারেল জেফার্স জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়ার সেনাদের মধ্যে একজন ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত শান্তি পর্ষদের বৈঠকে তিনি বলেন, এসব প্রাথমিক ধাপ গাজার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো। তিনি জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তার দেশ সর্বোচ্চ আট হাজার সেনা পাঠাবে।

কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-ইয়োমার্ত তোকায়েভ জানিয়েছেন, তার দেশ চিকিৎসা ইউনিটসহ অন্যান্য সহায়তা পাঠাবে। মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাজায় পুলিশ কর্মকর্তা পাঠানোর প্রস্তুতি জানিয়েছেন। আলবেনিয়াও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মিশর ও জর্ডান বাহিনীর কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে অংশ নেবে। তারা রাফা শহর থেকে কাজ শুরু করবে এবং নতুন পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেবে। চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ১২ হাজার পুলিশ সদস্য ও ২০ হাজার সেনা প্রস্তুত করা।

ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, সেনারা সরাসরি সংঘাতে অংশ নেবে না। তাদের নজর থাকবে বেসামরিক মানুষদের সুরক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্নির্মাণ কার্যক্রমে। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইন্দোনেশিয়া শাখার প্রধান উসমান হামিদ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, গাজায় সেনা পাঠানো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, শান্তি পর্ষদে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব নেই, বরং সেখানে ইসরায়েলের উপস্থিতি তাদের আধিপত্যকে আরও সুসংহত করবে।

গাজায় ইসরায়েলের হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পরে কয়েক মাস পার হলেও হামলা থেমে নেই; সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৬০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।