১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৩

লিবিয়া উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, নিহত অন্তত ৫৫

লিবিয়া উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, নিহত অন্তত ৫৫  © সংগৃহীত

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীদের বহনকারী রাবারের একটি নৌকা উল্টে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আইওএম জানায়, নৌকাটির মাত্র দু’জন নারী যাত্রী বেঁচে গেছেন। তারা দু’জনই নাইজেরিয়ার নাগরিক। শুক্রবার লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার করে। নৌকাটিতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শরণার্থীরা ছিলেন।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার উপকূলীয় শহর আল-জাওইয়া থেকে যাত্রা শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর নৌকাটিতে পানি ঢুকে সেটি ডুবে যায়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৫০০ অভিবাসী নিহত কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন বলেও জানিয়েছে আইওএম।

২০১১ সালে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় সাব-সাহারান আফ্রিকা থেকে আসা অভিবাসীদের জন্য লিবিয়া প্রধান প্রস্থানকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

বেঁচে যাওয়া অভিবাসীরা আইওএমকে জানান, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১১টার দিকে ত্রিপোলির পশ্চিমের আল-জাওইয়া থেকে রাবারের নৌকাটি ছেড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার ভোরে জুওয়ারার উত্তরে নৌকাটি উল্টে যায়। তবে দুর্ঘটনার তথ্য পেতে দেরি হওয়ার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

আইওএম জানায়, দুই জীবিত নারীর একজন তার স্বামীকে হারিয়েছেন, আরেকজন জানিয়েছেন, তার দুই শিশুই মারা গেছে। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দু’জনকেই জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কেবল গত জানুয়ারিতেই মধ্য ভূমধ্যসাগরে ভয়াবহ শীতকালীন আবহাওয়ার মধ্যে একের পর এক নৌকাডুবিতে অন্তত ৩৭৫ অভিবাসী নিহত কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনার পরও অভিবাসীরা এই বিপজ্জনক যাত্রার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। লিবিয়ায় অভিবাসীদের ভয়াবহ অবস্থার কথা দীর্ঘদিন ধরেই নথিভুক্ত রয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মীরা রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পক্ষ—বিশেষ করে মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর হাতে নির্যাতন, মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য নিপীড়নের বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন।

আইওএম আরও জানিয়েছে, পাচারকারী ও চোরাকারবারি চক্রগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও সমুদ্রযাত্রার অনুপযোগী নৌকায় মানুষ তুলে দিয়ে মুনাফা করছে, ফলে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সমুদ্রপথে প্রাণহানি কমাতে এসব চক্র ভেঙে দিতে জোরালো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের পথ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।