২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫৪

শান্তি আলোচনায় আমিরাতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিদেশীয় বৈঠক

ত্রিদেশীয় বৈঠকে অংশ নিতে আমিরাতে পুতিন  © সংগৃহীত

নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে বৈঠকে বসবেন রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনার পর এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, শুক্রবার আমিরাতের বৈঠকে ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব রুস্তেম উমেরভ। দলে আরও থাকবেন ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আন্দ্রিই গনাতভ। 

এর আগে ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দল বৃহস্পতিবার মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই আলোচনা সব দিক থেকে ফলপ্রসূ হয়েছে। এরপর উইটকফ ও তাঁর দল আবুধাবির উদ্দেশে রওনা দেয়।

রাশিয়ার কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আবুধাবির বৈঠকে মস্কোর প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ- এর পরিচালক জেনারেল ইগর কোস্তিউকভ। 

তিনি আরও বলেন, ‘মস্কো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাত সমাধানে আন্তরিকভাবে আগ্রহী। তবে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়া তাদের লক্ষ্য অর্জনে যুদ্ধের মাঠে এগিয়ে যাওয়া অব্যাহত রাখবে।’

 এর আগে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ বলেছিলেন, যুদ্ধরত দুই পক্ষ সমাধানে পৌঁছানোর আগে মাত্র একটি বিষয়ে আটকে আছে। তবে ওই বিষয়টি কী তা নিয়ে উইটকফ বিস্তারিত জানাননি।

মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের যে বৈঠক হয়েছে সেটির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ক্রেমলিন। তাতে দেখা গেছে, পুতিন, উইটকফ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা জশ গ্রুয়েনবাউম হাসি মুখে একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। 

মস্কোর ওই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, একটি খসড়া চুক্তি প্রায় প্রস্তুত। তিনি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধপরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট আরও জানান, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সও ইতোমধ্যে সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখলে নিয়েছে রাশিয়া। একটি চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চাইছে মস্কো। তবে কিয়েভ সতর্ক করে বলেছে, ভূখণ্ড ছেড়ে দিলে মস্কো আরও উৎসাহিত হবে। ভবিষ্যতে রাশিয়ার নতুন হামলা বন্ধে ব্যর্থ হবে, এমন কোনো চুক্তিতে তারা স্বাক্ষর করবে না।