০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৪

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ‘মুরাসু’, আঘাত হানতে পারে যেসব এলাকায়

ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’  © সংগৃহীত

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। এটি ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া সংস্থা (আইএমডি) জানিয়েছে, আগামী ২ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে এটি। ঘূর্ণিঝড়টির পরোক্ষ প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হতে পারে।

সোমবার (২ নভেম্বর) কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

সোমবার সকালে আইএমডির সর্বশেষ আপডেটে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় মুরাসু গত ছয় ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। শক্তি বাড়িয়ে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের তামিলনাড়ুর চেন্নাই থেকে প্রায় ২৬০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে অবস্থান করছে। এ ছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর থেকে ২৯০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, মাচিলিপত্তনম থেকে ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে, কাভালি থেকে ৩১০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, ওঙ্গোল থেকে ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে রয়েছে ঘূর্ণিঝড়টি।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। আগামী ২ নভেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ৩ নভেম্বর ভোর ৪টার মধ্যে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ওঙ্গোলের কাছাকাছি ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানতে পারে।

উপকূল অতিক্রমের সময় ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। তবে দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। সোমবার কলকাতা, হাওড়া ও হুগলি জেলায় আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। এসব এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতেও একই ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে। এ ছাড়া পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে।

পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলাতেও সকালের দিকে হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাব পড়তে পারে উত্তরবঙ্গেও। সেখানকার একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।