১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০৬

উত্তরে হালকা কুয়াশা, ২১ সেপ্টেম্বরের পরেই শুরু শীতের আবহ

শীতের আগমনী বার্তা প্রকৃতিতে  © ফাইল ছবি

বর্ষার শেষভাগ পেরিয়ে শরতের দিকে এগোচ্ছে দেশ। আকাশে মেঘের আনাগোনা কমছে, বৃষ্টিও আগের তুলনায় কমে এসেছে। এরই মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও ভোর কিংবা সন্ধ্যার দিকে হালকা কুয়াশার দেখা মিলছে। কোথাও আবার সকাল গড়িয়ে যাওয়ার আগেই মিলিয়ে যাচ্ছে সেই কুয়াশা। তাহলে কি শীত এসে গেল?

আবহাওয়াবিদরা জানান, উত্তরের দিকে হালকা কুয়াশা দেখা দেওয়া শীতের আগমনের একটি পূর্বাভাস হতে পারে। তবে এটিকে এখনই শীতের শুরু বলা যাবে না। কারণ বাংলাদেশে শীতের মৌসুম হিসেবে ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই তিন মাসকে ধরা হয়। এর আগে সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকে শীতের একটি আবহ তৈরি হতে শুরু করে।

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বর্ষাকাল বিদায় নেওয়ার আগেই শীতের একটি ভাব শুরু হয়। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা ঢাকা বা দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় কিছুটা কম থাকায় সেখানে সামান্য কুয়াশা দেখা দিতে পারে। এই কুয়াশা শীতকালের কুয়াশার মতো দীর্ঘস্থায়ী বা প্রভাবশালী নয়। সন্ধ্যা, রাত কিংবা শেষরাতে কুয়াশা দেখা গেলেও সূর্য উঠলে তা দ্রুত কেটে যেতে পারে। এর একটি কারণ হিসেবে দিনের তাপমাত্রার পার্থক্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দিনের তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকলেও শীতকালে উত্তরাঞ্চলে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ২৫ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো থাকে।

শীতের আগমনকে হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা। এর আগে ধীরে ধীরে কিছু পরিবর্তন শুরু হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাতাসের দিক পরিবর্তন এবং দিনের দৈর্ঘ্য কমে আসা।

আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, শীতের আগমনের একটি পূর্বশর্ত হলো উত্তর দিক থেকে ঠান্ডা বাতাসের প্রবাহ শুরু হওয়া। এখনই উত্তর দিক থেকে কিছুটা বাতাস আসতে শুরু করলেও দেশের ওপর বর্ষাকালের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে দক্ষিণ দিক থেকে আসা আর্দ্র বাতাসও এখনো রয়েছে।

তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের ২১ বা ২২ তারিখের দিকে দিন ও রাত প্রায় সমান হয়। এরপর ধীরে ধীরে দিনের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে। সূর্যের অবস্থানও দক্ষিণের দিকে সরে যায়। ফলে ঋতু পরিবর্তনের ধারায় শীতের আবহ ক্রমশ এগিয়ে আসে। পৃথিবীর সূর্যকে ঘিরে অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে দিনের দৈর্ঘ্য ও সূর্যের আলো পাওয়ার মাত্রায় পরিবর্তন ঘটে। বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় সেপ্টেম্বরের বিষুবের পর ধীরে ধীরে এখানে দিনের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে।

আবহাওয়াবিদ শাহিনুল বলেন, দক্ষিণ দিকে সূর্যের আলো বেশি পড়ার ফলে সেখানে বাষ্পায়নের প্রক্রিয়াও বেশি হয়। একই সঙ্গে বায়ুপ্রবাহের ধরন পরিবর্তিত হতে থাকে। শীতের দিকে এগোতে থাকলে উত্তর দিক থেকে তুলনামূলক ঠান্ডা বাতাস প্রবেশের প্রবণতা বাড়ে। তিনি বলেন, এই ঠান্ডা উত্তরীয় বাতাস এবং দক্ষিণ দিক থেকে আসা আর্দ্র বাতাসের পারস্পরিক প্রভাবের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকতে পারে। ভোর, রাত বা সন্ধ্যার সময় তখন হালকা কুয়াশাও দেখা দিতে পারে।

দেশের উত্তরাঞ্চলে সেপ্টেম্বরের শেষভাগে কুয়াশা দেখা গেলে সেটিকে শীতের আগমনী বার্তা হিসেবে দেখা গেলেও এখনই শীত শুরু হয়েছে বলা ঠিক হবে না বলে জানালেন এই আবহাওয়াবিদ। 

তার মতে, এ সময়ের কুয়াশা তুলনামূলকভাবে অল্প সময় স্থায়ী হতে পারে। রাতের শেষভাগে বা ভোরে কুয়াশা দেখা গেলেও সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিপরীতে শীতকালে তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ায় কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী ও ঘন হতে পারে। অর্থাৎ, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ কিংবা উত্তরাঞ্চলের অন্য কোনো এলাকায় ভোরে হালকা কুয়াশা দেখা দেওয়া শীতের প্রস্তুতিপর্বের একটি লক্ষণ হতে পারে কিন্তু সেটিকে শীতের মৌসুম শুরু হয়েছে তা বলা যাবে না।

বাংলাদেশের ঋতুচক্রে শীতের মৌসুম হিসেবে ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই তিন মাসকে বিবেচনা করা হয়। তাই সেপ্টেম্বরের শেষভাগে কুয়াশা বা তাপমাত্রার সামান্য পরিবর্তনকে শীতের শুরু না বলে শীতের আগমনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।

শাহিনুল ইসলামের ভাষায়, শীত হঠাৎ করে শুরু হয় না। এর একটা আবহ আগে থেকেই শুরু হয়। সেই আবহ এখন ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে। উত্তরের বাতাসের প্রবাহ, দিনের দৈর্ঘ্য কমে আসা, তাপমাত্রার পার্থক্য এবং বাতাসে আর্দ্রতার উপস্থিতি সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে শীতের আগমনী পরিবর্তনের সূচনা হয়। তবে সেই পরিবর্তন পূর্ণাঙ্গ শীতে রূপ নিতে এখনো সময় বাকি।

গত কয়েক দিনের আবহাওয়ার তথ্যেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রার পার্থক্য দেখা গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যের বরাতে শাহিনুল ইসলাম জানান, আগের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফেনীতে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল বান্দরবানে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তাপমাত্রার এই ওঠানামা, উত্তরের দিকে ভোরের হালকা কুয়াশা আর ক্রমশ ছোট হয়ে আসা দিনই জানান দিচ্ছে, ঋতুর পালাবদল শুরু হয়ে গেছে। শীতের চাদর গায়ে জড়ানোর সময় না এলেও আগমনী বার্তা দিয়ে যাচ্ছে উত্তরের হালকা হাওয়া।