১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮

টানা দুই দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ফেনীতে, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ

ফেনী সদর হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ  © টিডিসি ফটো

টানা দুই দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ফেনীতে। মঙ্গলবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে, যা আগের দিনের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি বেশি। এদিকে তীব্র গরমে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে রোগীর বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

ফেনী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ফেনীতে, ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, টানা দুই দিন সারা দেশের মধ্যে ফেনীতেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা, বাতাসের কম গতিবেগ এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি অস্বস্তিতে পড়ছেন মানুষ।

মঙ্গলবার দুপুরের পর ফেনী শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তীব্র গরমে সড়কে মানুষের চলাচল কিছুটা কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। তবে জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যানচালকসহ নির্মাণশ্রমিক ও দিনমজুরদের কাজ করতে দেখা গেছে। দীর্ঘসময় রোদে থেকে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

গত দুই দিন ধরে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমের কারণে ডায়রিয়া, জ্বর, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য গরমজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। শিশু, ডায়রিয়া, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে শয্যার কয়েক গুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।—ডা. রৌকন উদ দোলা, আরএমও, ফেনী জেনারেল হাসপাতাল

রিকশাচালক নুর নবী বলেন, ‘গরমের মধ্যে রিকশা চালালে শরীর থেকে অনেক ঘাম বের হয়। কিছুক্ষণ পরপর পানি খেতে হয়। কিন্তু কাজ বন্ধ রাখলে সংসার চলবে না, তাই কষ্ট হলেও রাস্তায় থাকতে হচ্ছে।’

শহরের এক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী আব্দুল ওহাব বলেন, ‘দুপুরের দিকে রাস্তায় দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে যায়। মাথার ওপর রোদ, আবার বাতাসও তেমন নেই। গত কয়েক দিন ধরে গরমটা বেশি অনুভূত হচ্ছে।’

স্কুলশিক্ষার্থী আসিফ ইফতেখার বলেন, ‘গরমের কারণে স্কুলে ক্লাস করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না, তখন ফ্যানও চলে না। প্রচণ্ড গরমে ঘেমে যেতে হয়, ফলে ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।’

অতিরিক্ত গরমে শিশু, বয়স্ক ও বাইরে কাজ করা মানুষদের নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, প্রচণ্ড গরমে শরীরে পানিশূন্যতা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি অপ্রয়োজনে সরাসরি রোদে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে যারা বাইরে কাজ করেন, তাদের নিয়মিত বিরতি নিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গরমের সময় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এ সময়ে খাবারের বিষয়ে সবাইকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে রাস্তার পাশের খোলা খাবার, ভাজাপোড়া ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতাসহ বিভিন্ন গরমজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রৌকন উদ দোলা বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমের কারণে ডায়রিয়া, জ্বর, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য গরমজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। শিশু, ডায়রিয়া, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে শয্যার কয়েক গুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, মাস্ক ব্যবহার, অসুস্থ হলে দূরত্ব মেনে চলা, প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বের হওয়া এবং বাইরে বের হলে ছাতা বা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিতে হবে।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা, বাতাসের কম গতিবেগ এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ফেনীতে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম ও অস্বস্তি অনুভূত হয়।