২৯ জুলাই ২০২৬, ১৭:০৭

ওয়াশরুমে পানির বদলে বালি, তীব্র শীতেও লাগে না হিটার, কী আছে সোনম ওয়াংচুকের ‘আশ্চর্য বাড়িতে’

সোনম ওয়াংচুককের বাড়ি  © সংগৃহীত

ভারতের শিক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতি ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে টানা ২৬ দিন অনশন পালনের পর অনশন প্রত্যাহার করেছেন লাদাখের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু করা এই অনশনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি অনশন ভাঙেন এবং নিজ কর্মভূমি লাদাখে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পরিবেশকর্মী হিসেবে ভারতজোড়া খ্যাতিসম্পন্ন এই শিক্ষাবিদের বাড়িতেও বেশ কয়েকটি চমক রয়েছে। লাদাখে সোনম ওয়াংচুকের প্রতিষ্ঠিত ‘দ্য হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অব অল্টারনেটিভস, লাদাখ’ (HIAL) কেবল গবেষণার কেন্দ্র নয়, বরং এটি স্থানীয় মাটি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন। 

লাদাখের তীব্র শীতেও কোনো হিটার বা বিদ্যুৎ ব্যবহার না করে কীভাবে ঘর গরম রাখা যায়, সেটি তার ‘প্যাসিভ সোলার’ প্রযুক্তিতে নির্মিত পরিবেশবান্ধব বাড়িতে ফুটে উঠেছে। কালো জানলা ও পানির বোতল দিয়ে দিনের বেলা সূর্যতাপ ধরে রেখে রাতে তা ঘরে ছড়িয়ে দেওয়ার ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক এই মেলবন্ধন পাহাড়ের চরম আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনে।

অঞ্চলের তীব্র পানিসংকটের কথা মাথায় রেখে তার এই বাসস্থানে তৈরি করা হয়েছে ‘কম্পোস্টিং টয়লেট’, যেখানে পানি ও ফ্ল্যাশের বদলে বালি-মাটির মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। এই বর্জ্য পরবর্তীতে জৈবসার ও ইউরিয়ায় রূপান্তরিত হয়ে কৃষিকাজে ভূমিকা রাখে। পরিবেশবান্ধব আধুনিক রান্নাঘর থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী বসার স্থান—সংকটময় অঞ্চলে টেকসই জীবনযাপনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। 

প্রযুক্তি মানেই যে শুধু জটিল যন্ত্র নয়, বরং প্রকৃতি ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়েও এক আধুনিক ও সাশ্রয়ী জীবন উপহার দেওয়া সম্ভব, সোনম ওয়াংচুকের এই প্রচেষ্টা সেটাই স্মরণ করিয়ে দেয়।