রাজধানীসহ ৬ বিভাগে বন্যার সতর্কবার্তা
সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে টানা ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে দেশের ১২টি জেলায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, প্লাবিত হতে পারে নতুন নতুন এলাকা। আজ রবিবার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র পৃথক পূর্বাভাসে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আবহাওয়া অফিসের দেওয়া ভারি বর্ষণের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আজ রবিবার দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪–৮৮ মি.মি.) থেকে অতি ভারি (৮৮ মি.মি.-এর বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।
টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্লাবিত হয়ে যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। জলজটের কারণে বিভিন্ন এলাকার স্কুল-কলেজ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ। ভারি বৃষ্টির কারণে তারা কাজের সন্ধানে বাইরে বের হতে পারছেন না।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা নদ-নদীর পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশের প্রধান প্রধান ৫টি নদী স্টেশনে পানি ইতিমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে— সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও দোহাজারী (চট্টগ্রাম) পয়েন্টে, কুশিয়ারা নদী মারকুলি (সুনামগঞ্জ) ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) পয়েন্টে।
পাউবো জানিয়েছে, আগামী দুদিনে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব অথবা বর্তমান পরিস্থিতির আরও কিছুটা অবনতি হতে পারে। এ সময় নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তবে স্বস্তির খবর রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু নদীর অববাহিকায়। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু ও খোয়াই নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।