০৮ জুলাই ২০২৬, ১৭:০২

আজ একই সময়ে সূর্যের আলোতে থাকবেন পৃথিবীর ৯৯ ভাগ মানুষ

প্রতীকী ছবি   © সংগৃহীত

গ্রিনিচ মান সময় বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আজ বুধবার (৮ জুলাই) (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিট) এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। এই মাত্র এক মিনিটের সংক্ষিপ্ত সময়ে পৃথিবীর অক্ষের বিশেষ কৌণিক অবস্থান এবং উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালের কারণে বিশ্বের প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সাথে সূর্যালোক অর্থাৎ পূর্ণ দিনের আলো অথবা গোধূলির আভা দেখতে পাবেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দিষ্ট মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলো সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত থাকবে এবং বিশ্বের মাত্র এক শতাংশ মানুষ সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকবেন। এই সময়ে উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল জুড়ে দিনের আলো বিস্তৃত থাকবে, যেখানে বিশ্বের সিংহভাগ মানুষ বসবাস করেন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশ, অ্যান্টার্কটিকা এবং তৎসংলগ্ন মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলো তখন অন্ধকারে ডুবে থাকবে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এটি কেবল আজ বা কোনো একটি নির্দিষ্ট দিনের ঘটনা নয়। প্রতি বছর ১৮ মে থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৬০ দিন ধরে প্রতিদিন এমন একটি সংক্ষিপ্ত মুহূর্ত আসে, যখন বিশ্বের প্রায় সব মানুষ একসাথে দিনের আলো বা গোধূলির আভাস পান। ২০২২ সালে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে ৮ জুলাই তারিখটি বিশেষভাবে ভাইরাল হয়েছিল। পরবর্তীতে ‘টাইম অ্যান্ড ডেট’-এর একটি তথ্য যাচাইয়ে দেখা যায়, ৮ জুলাই সূর্যালোকের ব্যাপ্তি সবচেয়ে বেশি হলেও গ্রীষ্মকালের এই দুই মাস জুড়েই প্রায় প্রতিদিন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সূর্যালোকের এই চরম মুহূর্তে বিশ্বের প্রায় ৬৯০ কোটি মানুষ সরাসরি পূর্ণ দিনের আলো পাবেন। এছাড়া আরও প্রায় ৫৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ আলোকোজ্জ্বল গোধূলি বা সিভিল টোয়াইলাইট উপভোগ করবেন, যেখানে কৃত্রিম আলো ছাড়াই বাইরের স্বাভাবিক কাজ করা সম্ভব। বাকিদের মধ্যে প্রায় ৪৯ কোটি ৮০ লাখ মানুষ নটিক্যাল টোয়াইলাইট এবং ২৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টোয়াইলাইটের মৃদু আভা দেখতে পাবেন। এর বিপরীতে মাত্র ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অর্থাৎ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ এই সময়ে সম্পূর্ণ অন্ধকার রাতের মধ্যে থাকবেন।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, ২১ জুনের সলস্টাইস বা কর্কটসংক্রান্তির দিন উত্তর গোলার্ধে বছরের সবচেয়ে বড় দিন হওয়া সত্ত্বেও এই ঘটনাটি কেন ৮ জুলাই ঘটছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জুন সলস্টাইসের পর সূর্য যখন সামান্য দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে, তখন উত্তর মেরুর জনহীন প্রত্যন্ত অঞ্চলে দিনের আলো কিছুটা কমে যায়। তবে এর ফলে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো এশিয়ার অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে সূর্যালোক আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে। সূর্যের এই সামান্য স্থানান্তরের কারণে কর্কটসংক্রান্তির দিনের চেয়েও ৮ জুলাই প্রায় ১ কোটি বেশি মানুষ একসাথে সূর্যালোকের আওতায় চলে আসেন।