১৩ মে ২০২৬, ১৩:১৭

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে দুই লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড় ও ৮ দিন কালবৈশাখীর শঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে অন্তত দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর  © বাসস

চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে বঙ্গোপসাগরে অন্তত দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ এ তথ্য জানান।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তার ভাষ্য, চলতি মে মাসের ১৫ তারিখের পর বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা হয়েছে। এ মাসে দেশে ৫ থেকে ৮ দিন কালবৈশাখী ও বজ্রঝড় এবং এক থেকে তিন দফা তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। খবর: বাসস।

ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সাম্প্রতিক সভার বরাত দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতও হতে পারে।

বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেটে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেখানে ৫২০ থেকে ৫৪০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহে ৩৪০ থেকে ৩৬০ মিলিমিটার, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৩০ থেকে ৩৫০, রংপুর বিভাগে ২৬০ থেকে ২৮০ এবং ঢাকায় ২৫০ থেকে ২৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বরিশাল বিভাগে ২২০ থেকে ২৫০, রাজশাহীতে ১৭০ থেকে ১৯০ এবং খুলনা বিভাগে ১৬০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, এ মাসে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে পাঁচ থেকে আট দিন হালকা থেকে মাঝারি কালবৈশাখী ও বজ্রঝড় হতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখীর শঙ্কা রয়েছে। শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।

দিন ও রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিক থাকতে পারে। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে এক থেকে তিন দফা মৃদু অথবা মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র তাপপ্রবাহে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে সময় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠতে পারে।

নদ-নদীর পরিস্থিতি নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়, মে মাসে প্রধান নদ-নদীগুলো স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকতে পারে। উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্ন ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু সময় নদীর পানি সমতল বাড়তে পারে।

কৃষি আবহাওয়া সম্পর্কিত পূর্বাভাসে বলা হয়, এ মাসে দেশের দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ৩.৫ থেকে ৫.৫ মিলিমিটার এবং গড় সূর্যকিরণকাল সাড়ে ৫ ঘণ্টা থেকে সাড়ে ৭ ঘণ্টা থাকতে পারে। বৃষ্টিপাত ও মাটির আর্দ্রতার বর্তমান পরিস্থিতি মৌসুমের কৃষিকাজের জন্য সহায়ক হতে পারে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৫.৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। সব বিভাগেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। যদিও রাজশাহী বিভাগে বৃষ্টিপাত ছিল প্রায় স্বাভাবিক। বেশি বৃষ্টিপাতের বিচ্যুতি দেখা গেছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৬৯.৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: হলে যাওয়ার সময় জাবি ছাত্রীকে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা

এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫০.৯ শতাংশ এবং সিলেট বিভাগে ১০৪.৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১১৯ মিলিমিটার। তবে রেকর্ড করা হয়েছে ২১৩ মিলিমিটার বৃষ্টি। সিলেটে স্বাভাবিক ২৯৫ মিলিমিটারের বিপরীতে বৃষ্টি হয়েছে ৬০৩ মিলিমিটার।

আবহাওয়াবিদরা জানান, পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূবালী বায়ুপ্রবাহের সংযোগের কারণে এপ্রিলে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। ৬ থেকে ৯ এপ্রিল এবং ২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বৃষ্টি, বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া বয়ে যায়। অনেক স্থানে শিলাবৃষ্টিও হয়েছে।

দেশের সর্বোচ্চ একদিনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে। গত ২৮ এপ্রিল ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। পাশাপাশি এপ্রিল মাসে বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দফা তাপপ্রবাহও বয়ে গেছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে তাপীয় লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় ১ থেকে ৪ এপ্রিল, ১২ থেকে ১৫ এপ্রিল, ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল ও ২০ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ দেখা দেয়।

এপ্রিল মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। গত ২২ এপ্রিল তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাঙ্গামাটিতে, ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।