০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৬

তীব্র তাপে পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা, মানুষের নিরাপদ থাকতে যে পরামর্শ দিলেন আবহাওয়াবিদরা

তীব্র তাপদাহ  © সংগৃহীত

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে তাপদাহ। এপ্রিলের শুরুতেই তাপমাত্রার পারদ ৩৯ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে, যা বাসিন্দাদের জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। গত ১ এপ্রিল বেলা তিনটায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরের কয়দিন তাপমাত্রা আরও বেড়েছে। 

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, ২ এপ্রিল দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ৪৫ শতাংশ। বেলা ৩টায় তাপমাত্রা লাফিয়ে বেড়ে হয় ৩৮.৫°সেলসিয়াস, আর্দ্রতা কমে দাঁড়ায় ৩৪ শতাংশ এ। এটি ছিল সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এই সময়ে গরমের অনুভূতি তীব্র আকার ধারণ করে। আর সন্ধ্যা ৬টায় তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকলেও, আর্দ্রতা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩ শতাংশ এ। বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরমে জনদুর্ভোগ বাড়তে থাকে।

এদিকে আজ ৩ এপ্রিল দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ৩৯ শতাংশ। তবে বেলা ৩টায় সেটি আরও বেড়ে যায়। বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা নেমে দাঁড়ায় ৩১ শতাংশ এ।

হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া এই তাপমাত্রায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ ও শিশু-বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। দুপুরের পর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। প্রখর রোদ আর গরম বাতাসে বাইরে বের হওয়াই দুষ্কর হয়ে উঠছে।

এদিকে গরম থেকে বাঁচতে মানুষ ঘরোয়া পদ্ধতির পাশাপাশি দোকানে শরবত, ডাবের পানি ও আইসক্রিমের মতো ঠান্ডা খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে ঠান্ডা পানীয়ের দোকানে ভিড় দেখা গেছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল হাসান বলেন, সাধারণত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তাপপ্রবাহ শুরু হলেও এবার তা শুরু হয়েছে আগেই। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় তাপমাত্রা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। 

আবহাওয়া অফিস ও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনাবশ্যক বাইরে বের না হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ওজনের কাপড় পরিধান করা এবং রোদের তীব্রতা এড়িয়ে চলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলটিতে প্রায়ই তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। এপ্রিল ও মে মাস চুয়াডাঙ্গার জন্য সবচেয়ে কষ্টকর সময় হিসেবে রেকর্ডে রয়েছে।