ঢাকা-চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, নেই সচিবালয়-বাংলাদেশ ব্যাংক-ট্রাইব্যুনালেও
ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিদ্যুৎ না থাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারকাজও ব্যাহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে একটার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারকাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় মঙ্গলবার আর বিচারকাজ না চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, এর আগে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ হয়েছিল কি না, তা তাঁর মনে পড়ছে না।
বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহালের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল করা হয়েছে। বাকী অংশেও স্বল্পসময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে মর্মে আশা করা যাচ্ছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
পাওয়ার গ্রিড পিএলসি জানিয়েছে, ঢাকার পূর্বাঞ্চলের ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মগবাজার, বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকাতেও বিদ্যুৎ নেই। চট্টগ্রামের একাংশেও একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে সংযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ করছেন।
জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬০১ মেগাওয়াট। ওই সময় উৎপাদন হয় ১৪ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ঘাটতি ছিল ২৯৮ মেগাওয়াট। তবে এই ঘাটতির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও খবর: ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনের অনলাইন আবেদন চার ধাপে, শুরু ১ নভেম্বর
বিপর্যয়ের কারণ ও সূত্রপাত নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি দেখা দিলে বড় এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
এর আগে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছিল। ওই দিন বেলা ২টা ৫ মিনিটে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় তিন থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। এ ছাড়া ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।