২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৪৬

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ জানাল বিপিসি

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন  © টিডিসি সম্পাদিত

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লোকসানে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ পরিস্থিতিতে লোকসান কমাতে দেশের বাজারে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এতে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বাড়ায় জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে জ্বালানি আমদানি ব্যয় ছিল ৪ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। মে মাসে গত বছরের একই সময়ের ৪ হাজার ১৮২ কোটি টাকা থেকে আমদানি ব্যয় বেড়ে ১৩ হাজার ৪৮৫ কোটি এবং আগস্টে ২ হাজার ৭৪০ কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা হয়েছে।

মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির নিজস্ব তহবিল থেকে লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে এপ্রিলে লোকসান ছিল ৭ হাজার ৮৬৬ কোটি এবং জুনে ৬ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে লোকসান ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয় বিপিসি। চিঠিতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত লোকসানের অর্থ সরকারি সহায়তা হিসেবে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি তেলের ওপর শুল্ক-কর কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

এরপর বিপিসির অর্থ সংকট নিয়ে গত সপ্তাহে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জ্বালানি আমদানির জন্য বিপিসির হাতে মাত্র ১৫ দিনের অর্থ থাকার বিষয়টি উঠে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপিসিকে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এখনো ওই অর্থ দেওয়া হয়নি।

বিপিসি জানিয়েছে, আমদানি ব্যয় মেটাতে চলতি বছর ব্যাংক থেকে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক হিসাবে রয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। অথচ দুই মাসের জ্বালানি আমদানি ব্যয় মেটাতে প্রয়োজন প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান হচ্ছে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে।

লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।