অবশেষে পানি শোধনাগার চালু, স্বস্তিতে সুন্দরগঞ্জ পৌরবাসী
দীর্ঘ দুই বছর পথ চেয়ে থাকার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগার। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দ্রুত পানি সরবরাহ চালুর দাবিতে মানববন্ধন হওয়ার এক দিন পর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয় শোধনাগারের পানি সরবরাহ লাইন। এতে দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকটে থাকা পৌরবাসীর মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি।
জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার নাগরিকদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে ২০২২ সালে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৩ টাকা ব্যয়ে ২০০ ঘনমিটার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে। পরের মাসেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর শোধনাগারটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু নানা জটিলতায় শোধনাগারটি চালু না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত ছিলেন পৌরসভার বাসিন্দারা। এ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ জমতে থাকে স্থানীয়দের মধ্যে।
এ অবস্থায় রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সামনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন থেকে দ্রুত পানি সরবরাহ চালু করে পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনের জোর দাবি জানানো হয়। স্থানীয়দের সেই দাবির মুখে পরদিনই পানি সরবরাহের লাইন চালু করা হয়। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।
স্থানীয় লোকজন জানান, পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনের লক্ষ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে শোধনাগারটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় সেটি চালু না হওয়ায় প্রকল্পটির সুফল পাচ্ছিলেন না সাধারণ মানুষ। অবশেষে পানি সরবরাহের লাইন চালু হওয়ায় তারা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন।
তবে শুধু লাইন চালু হলেই যে সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, তা মনে করছেন না স্থানীয়রা। তাদের দাবি, নিয়মিত, নিরাপদ ও মানসম্মত সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পৌরসভার প্রতিটি এলাকায় পর্যায়ক্রমে পানি পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পানি শোধনাগারের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
রবিবারের মানববন্ধনে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, এনামুল হক, সাইফুল ইসলাম, আবু সাঈদ মোহাম্মদ মুজাহিদ, শাহিন আলম, পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুন্নবী প্রামাণিক সাজুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেন। মানববন্ধনে বক্তারা পানি শোধনাগার চালুর পাশাপাশি পৌরসভার চলমান রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজে ধীরগতি এবং নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলে এসব কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্থানীয় লোকজন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অবশেষে পানি সরবরাহের লাইন চালু হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ও নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। তবেই প্রকল্পের প্রকৃত সুফল পাবেন সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ্য, দুই বছর ধরে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুন্দরগঞ্জের পানি শোধনাগার চালু না হওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনা হয়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির মুখে অবশেষে পানি সরবরাহের লাইন চালু হলো। তবে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সুফল পেতে শোধনাগারের নিয়মিত পরিচালনা, পানির গুণগত মান পরীক্ষা এবং সব ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।