কারিগরি জটিলতায় রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু নিয়ে শঙ্কা
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেফটি ভালভেস বারবার ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময়সীমা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। রিঅ্যাক্টরের প্রেসারাইজারে থাকা এই পাইলট-অপারেটেড রিলিফ ভালভটি প্রাইমারি কুলিং সিস্টেমের অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের প্রধানতম সুরক্ষা উপাদান। সমস্যা সমাধানের অংশ হিসেবে রাশিয়ার পরমাণু প্রকৌশল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসসি এএসই দ্বিতীয় ইউনিট থেকে একটি ভালভ এনে প্রথম ইউনিটে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সেফটি ভালভের ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পিছিয়ে যাচ্ছে এবং মেরামতের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা আপাতত নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। রসাটমের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান JSC ASE নিশ্চিত করেছে, ভালভটি এই নির্দিষ্ট রিঅ্যাক্টর ডিজাইনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক বাজার থেকে কিনে এনে এটি প্রতিস্থাপনের সুযোগ নেই।
এদিকে গত ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন ও রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জানানো হয়, টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে ভালভটির পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে। সরঞ্জামটি ৫০ থেকে ৬০ বছর সচল রাখার বাধ্যবাধকতা থাকায় অতিরিক্ত নকশাবিদ এনে বিদ্যমান সরঞ্জাম পুনর্সমন্বয়ের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালকের তথ্যমতে, প্রথম ইউনিটের জন্য নির্ধারিত ৫৮টি স্থাপনার মধ্যে ৪৭টি বাংলাদেশ বুঝে পেয়েছে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনিট-১-এর অস্থায়ী হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রথম ইউনিটের জন্য বরাদ্দ থাকা কিছু স্পেয়ার সরঞ্জাম ইতোমধ্যেই দ্বিতীয় ইউনিটে ব্যবহার করায় নতুন করে সরবরাহ, স্থাপন ও কমিশনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে ইউনিট-২ হস্তান্তরের কথা থাকলেও পুরো প্রকল্পের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়নের দাবি জানানো হলে রুশ পক্ষ অভিজ্ঞ দল পাঠানো ও ভেন্টিলেশন-এয়ার কন্ডিশনিং কাজের গতি বাড়াতে চার্টার ফ্লাইটে অতিরিক্ত বিশেষজ্ঞ আনার আশ্বাস দিয়েছে।
কম-কার্বন বিদ্যুতের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল প্রাক্কলিত বাজেট ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে সংশোধিত বাজেটে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। উদ্ভূত কারিগরি জটিলতা সমাধান ও অসম্পন্ন কাজের সমন্বিত সময়সূচি তৈরিতে দুই দেশই যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।