১০ মার্চ ২০২৬, ১৪:০৪

এশিয়ার কোন দেশে জ্বালানি তেলের মজুত কত?

তেল সরবরাহ  © সংগৃহীত

ইরানে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। অনেক দেশেই তেল সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় চাপ বেড়েছে।

যেসব দেশ আগে থেকেই জ্বালানি তেল সংরক্ষণের অবকাঠামো তৈরি করেছে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য মজুত রাখার সক্ষমতা অর্জন করেছে, তারা তুলনামূলকভাবে কম ভোগান্তিতে পড়ছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকায় সাময়িক সরবরাহ বিঘ্নিত হলেও এসব দেশ মজুত তেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। বিপরীতে, যেসব দেশের সংরক্ষণ সক্ষমতা সীমিত, তারা সরবরাহ ঘাটতি ও বাজার ঝুঁকিতে পড়ছে।

জানা গেছে, চীনের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট রিফর্ম কমিশনের তথ্যমতে দেশটিতে ৯০ দিনের জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। জাপানের সরকারি সংস্থা জাপান অয়েল, গ্যাস অ্যান্ড মেটালস ন্যাশনাল কর্পোরেশনের তথ্যমতে, দেশটির ২০০-২৪০ দিনের মজুত সুবিধা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ন্যাশনাল অয়েল কর্পোরেশনের তথ্যমতে, দেশটির ৯০-১০০ দিনের, ভারতের আইএসপিআরএল অনুযায়ী ৭৪-৮০ দিনের জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।

থাইল্যান্ডের জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, আইন অনুযায়ী দেশটিতে ৬০ দিনের তেল মজুত বাধ্যতামূলক। ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে দেশটির ২০-২৫ দিনের, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাসের তথ্যমতে ৫০-৬০ দিনের, সিঙ্গাপুরের এনার্জি মার্কেট অথরিটির তথ্যমতে ৯০ দিনের (বাণিজ্যিক স্টোরেজসহ) এবং পাকিস্তানের অয়েল অ্যান্ড গ্যাস রেগুলেটরি অথরিটির তথ্যমতে ২০-২৫ দিনের জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার সিলন পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্যমতে দেশটির ২০-২৫ দিনের, মিয়ানমারের অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজের তথ্যমতে ৩১-৫৪ দিনের এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের তথ্যমতে ৩৫-৪০ দিনের জ্বালানি তেল মজুত আছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব মজুতের সক্ষমতা দেশগুলোকে সাময়িক সরবরাহ বিঘ্নিত হলেও সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করবে। তবে সংরক্ষণ সক্ষমতা সীমিত দেশগুলো বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থিরতার কারণে সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়েছে।