০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২২

জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে প্রযুক্তি এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি : ইবি উপাচার্য

১৭তম জাতীয় আন্ডার গ্রাজুয়েট গণিত অলিম্পিয়াডে বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।  © সংগৃহীত

একটি প্রযুক্তি-উন্নত, আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে প্রযুক্তি এবং যৌক্তিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে ১৭তম জাতীয় আন্ডার গ্রাজুয়েট গণিত অলিম্পিয়াডের খুলনা আঞ্চলিক পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইবি উপাচার্য বলেন, ডিজিটালাইজেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বর্তমান যুগে গণিত অলিম্পিয়াড বা গণিত চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। গণিত কেবল একটি অ্যাকাডেমিক বিষয় কিংবা ক্যালকুলাসের হাতিয়ার নয়, বরং এটি সমস্ত বিজ্ঞানের মৌলিক ভাষা এবং জনক। একটি উন্নত সমাজ গঠনে গণিতের প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি করা আবশ্যক।

অনুষ্ঠানে খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে উপাচার্য এই প্রতিযোগিতাকে কেবল বিজয়ের মাধ্যম হিসেবে না দেখে, নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাকে ঝালাই ও পরীক্ষা করার একটি বড় সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ গণিত সমিতি ও এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় ইংরেজি মাধ্যমে ১২০ মিনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিটির মান ১০ নম্বর করে সর্বমোট ৮০ নম্বরের ৮টি গাণিতিক সমস্যা সমাধান করতে দেওয়া হয়।

গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মোহিতের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বুয়েটের জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মনিরুল আলম সরকার। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইবির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান ও অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।

আঞ্চলিক পর্বে বিজয়ী শিক্ষার্থীরা আগামী ৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। জাতীয় পর্যায়ের সেরা প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতা (IMC)-এ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন।