যবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা, দাবি করা হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা করছে একটি চক্র। বিকাশ, নগদ ও রকেটের এজেন্ট কিংবা স্থানীয় দোকানদারের পরিচয় ব্যবহার করে ফোনে জাল নোট লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। থানায় মামলা করার হুমকি দিয়ে চক্রটি বড় অঙ্কের টাকাও দাবি করছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের কাছে এ ধরনের ফোন আসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারকরা দাবি করছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁদের কাছ থেকে টাকা লেনদেনের সময় জাল নোট দিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয়ে বিকাশ, নগদ ও রকেটের এজেন্টদেরও ফোন করছে চক্রটির সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট এজেন্টের দোকান থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ক্যাশ আউট করার সময় তাঁদের জাল নোট দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার হুমকি দিয়ে মামলা থেকে রেহাই পেতে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করছে প্রতারকরা।
এদিকে, এ ধরনের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারকদের এমন কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন আমবটতলার বিকাশ-নগদ এজেন্ট শরিফ হোসেন জানান, একজন শিক্ষার্থী আমার কাছে এসে জানতে চান, আমি তাঁকে ফোন দিয়েছিলাম কি না? তাঁকে ফোন করে বলা হয়েছে, টাকা লেনদেনের সময় তিনি আমাকে জাল নোট দিয়েছেন। এ অভিযোগে মামলা করার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছে। অথচ আমরা কাউকে এ ধরনের ফোন করিনি। আমাদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারকরা সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, অপরিচিত নম্বর থেকে আমাকেও ফোন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয়ে একজন দাবি করেন, তিনি আমার দোকান থেকে টাকা ক্যাশ আউট করার সময় জাল নোট পেয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা করবেন বলে হুমকি দেন এবং বিনিময়ে টাকা দাবি করেন।
এ বিষয়ে যবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন বিকাশ ও নগদ এজেন্টের কয়েকটি দোকানের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করা হচ্ছে। আমি আমবটতলার একটি দোকানে কথা বলেছি। তারা সবকিছু আমাকে বলেছে। আমি শিক্ষার্থীদের বলতে চাই, অপরিচিত কোনো নম্বর থেকে এ ধরনের ফোন এলে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন। আপনারা বিষয়টি দ্রুত প্রক্টর অফিসকে জানান। আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে এ চক্রকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করব।’