০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১:৫১

হীরকজয়ন্তীকে ঘিরে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ১২ দাবিতে চবি ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি

হীরকজয়ন্তীকে ঘিরে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ১২ দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বরাবর চবি ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি  © সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৬০ বছর পূর্তিতে হীরকজয়ন্তী উদযাপনকে শিক্ষার্থীবান্ধব, সার্বজনীন ও স্মরণীয় করতে ১২ দফা দাবি জানিয়ে মতবিনিময় সভা ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে শাখা ছাত্রশিবির। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকানের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ১২ দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল, আলোকসজ্জা, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার, প্রাথমিক চিকিৎসা, সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স, পর্যাপ্ত শাটল ট্রেন ও বাস এবং সুশৃঙ্খল পার্কিং ব্যবস্থাপনার বিষয় উল্লেখ করে সংগঠনটি।

এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো, শহীদ মো. ফরহাদ হোসেন ও হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার আত্মত্যাগের ইতিহাস এবং আন্দোলনে চবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান স্মারক গ্রন্থে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। স্মারক গ্রন্থে চাকসু, হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচন ২০২৫-এর ইতিহাস এবং চাকসুর সপ্তম ক্যাবিনেটের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

আরও জানা যায়, স্মারকলিপিতে চাকসুর সাবেক ভিপি, জিএস ও সর্বশেষ ক্যাবিনেটের সদস্যদের আমন্ত্রণ, ১৮ নভেম্বরের আগে প্রস্তাবিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ দৃশ্যমান করা এবং চট্টগ্রাম জেলার সংসদ সদস্যদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে সরকার ও বিরোধী দল থেকে একজন করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখার দাবি জানানো হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক ও ইসলামী সংগীতের আয়োজন এবং অতীতে ক্যাম্পাসে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাবিব উল্লাহ খালেদ, বায়তুলমাল সম্পাদক ইসহাক ভূঞা,সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হারেস মাতাব্বর, প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহান, বিজ্ঞান ও আইটি সম্পাদক আবিদুর রহমান, এইচআরডি সম্পাদক হারুনুর রশিদ, প্রকাশনা ও দাওয়াহ সম্পাদক রিয়াদ হোসাইনসহ অন্যান্যরা।

চবি ছাত্রশিবিরের নেতারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহাসিক আয়োজন সফল করতে তারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তারা বলেন, উল্লিখিত দাবিসমূহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক আয়োজনকে আরও অর্থবহ, সুশৃঙ্খল ও সার্বজনীন করে তুলবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তাই দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে ভিসি মহোদয় আশ্বস্থ করেন।