০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:৪১

পিএসসিতে দলীয়করণের অভিযোগ, জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কারসহ শিবিরের ১২ দফা দাবি

১২ দফা দাবিতে ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলন  © টিডিসি ফটো

জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাঠামোগত সংস্কার, সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিতকরণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয়করণের প্রতিবাদে ১২ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধ, নিয়োগের দীর্ঘসূত্রিতা নিরসন এবং পিএসসির স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এসব দাবি বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণ, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিলসহ ধারাবাহিক আন্দোলনেরও ঘোষণা দিয়েছে তারা।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের(ঢাবি) ডাকসু ভবনের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। এতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সঙ্গে ছাত্রসংগঠনগুলোর মতবিনিময় সভা বর্জনের কারণ ব্যাখ্যা করেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, গতকাল সচিবালয়ে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনকে মতবিনিময়ের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ও লেজুড়ভিত্তিক ছাত্রসংগঠন ছাড়া অধিকাংশ সংগঠনই ওই সভা বর্জন করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরও সভায় অংশ নেয়নি। এর কারণ উল্লেখ করে সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিব বরাবর লিখিত বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে সরকার স্বাক্ষর করেছে এবং এ বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটে ৬৯ শতাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তাতে বাংলাদেশের সংবিধানের কোন কোন জায়গায় সংস্কার ও পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নির্ধারিত হয়ে গেছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের জন্য গণভোট আয়োজন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে অধ্যাদেশও জারি করা হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, একটি মীমাংসিত বিষয়কে আবারও আলোচনার নামে বিলম্বিত করে জাতির সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণেই ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ দেশ ও জাতির কল্যাণকামী অধিকাংশ ছাত্রসংগঠন মতবিনিময় সভা বর্জন করেছে।

সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সতর্ক করে শিবির সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান এর আগে পঞ্চম, অষ্টম ও ত্রয়োদশ সংশোধনীসহ একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় পরবর্তী সময়ে আদালত এসব সংশোধনীর কয়েকটি বাতিল করেছেন। বর্তমান সরকারও যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে এককভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে সেসব সংশোধনী আদালতে বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নই হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ পথ। একই অধ্যাদেশের অধীনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকার জাতীয় নির্বাচনের ফল গ্রহণ করছে, অথচ ৬৯ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। এটি সরকারের নিজেদের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে দেশকে বড় ধরনের আইনি জটিলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।’

সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করার সময় যেসব বিষয়ে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। নতুন করে সংবিধান সংশোধনের নাটক না করে জুলাই সনদে উল্লেখিত ৮৭টি বিষয়ে সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন এবং ফ্যাসিবাদের স্থায়ী অবসানে ভূমিকা রাখতে হবে।

এরপর সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয় পিএসসি সংস্কার ও সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রস্তাবনা তুলে ধরে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি চাকরিতে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে চাকরির ক্ষেত্রে সমান সুযোগের যে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নের দাবিতেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেই অধিকার উপেক্ষিত হয়েছিল। অথচ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েও চাকরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকারি কর্ম কমিশনের সংস্কার, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি এবং বিভিন্ন নিয়োগে দলীয় বিবেচনার অভিযোগ তাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। দেশে সংবিধান, আইন, আদালত এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও কেন স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী কাঠামো তৈরির পেছনে রাষ্ট্রের দুর্বল সাংবিধানিক কাঠামো অন্যতম কারণ।

শিবির সভাপতি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জুলাই সনদের মূল চেতনা ও প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। গণভোটে ৬৯ শতাংশ মানুষের রায় এবং রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। পিএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বিচার বিভাগ, সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে মেধা ও দক্ষতা উপেক্ষা করে নিয়োগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক নম্বর বৃদ্ধি এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের বাদ দেওয়ার ঘটনা দলীয়করণের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পিএসসি সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে প্রচলিত পিএসসি কাঠামো পুনর্গঠন করে সংবিধানের অধীনে তিনটি পৃথক কমিশন গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এসব কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য বাছাইয়ের জন্য সংসদের সরকারি ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি গঠন এবং কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রত্যেক কমিশনের একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাদের পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু এসব গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলীয় হস্তক্ষেপমুক্ত পিএসসি গঠনের অঙ্গীকার করার পরও সরকার কেন সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করছে না, এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সময়সীমা কোথায় এবং নিয়োগের দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে সরকারের পরিকল্পনা কী? রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রভাবমুক্ত নিয়োগ নিশ্চিত করার প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধে সরকারের কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পিএসসি সংস্কারে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কথা উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আগে লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকদের বাসায় পাঠানো হতো। খাতায় পরীক্ষার্থীর রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ থাকত। একজন পরীক্ষক পুরো খাতা মূল্যায়ন করতেন। এতে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হতো এবং ফল প্রকাশে ১৮ থেকে ২০ মাসের বেশি সময় লাগত। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীর পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার সুযোগ থাকায় অনিয়ম ও দুর্নীতির আশঙ্কাও ছিল।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। পরীক্ষকদের নির্ধারিত স্থানে এনে মোবাইল ফোন থেকে দূরে রেখে প্রশ্নভিত্তিকভাবে খাতা মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। এতে ৩৫ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে খাতা মূল্যায়ন সম্ভব হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীর পরিচয় গোপন রাখতে কোডিং পদ্ধতি চালু করা হয়। ফলে মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিচয় প্রকাশের আশঙ্কাও কমেছে।

মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আগে বিসিএসে ভাইভায় ২০০ নম্বর ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় বিবেচনায় কাউকে ১৮০ থেকে ১৯০ নম্বর দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসন, পুলিশ ও পররাষ্ট্র ক্যাডারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে তারা মনে করেন। অন্যদিকে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কিংবা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন প্রার্থীদের নম্বর কমিয়ে দেওয়া হতো।

তিনি বলেন, শিবিরের সুপারিশের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভাইভার নম্বর ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হয়। যদিও তাদের দাবি ছিল ৫০ নম্বরে নামিয়ে আনা। পাশাপাশি মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা, আচরণ ও বাস্তব কর্মদক্ষতা যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ‘কম্পিটেন্সি বেজড ইন্টারভিউ’ পদ্ধতি চালু করা হয়, যা এখনো চালু রয়েছে।

প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পিএসসির নিজস্ব ডিজিটাল প্রেস স্থাপন, প্রশ্নপত্র পরিবহনে নিরাপত্তা জোরদার এবং ওএমআর পদ্ধতির আধুনিকায়নের উদ্যোগও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। এ ছাড়া এক বছরের মধ্যে একটি বিসিএসের সব কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতি চালু করা হয়। আগে একটি বিসিএসের কার্যক্রম শেষ হতে তিন থেকে চার বছর লেগে যেত, যা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ ছিল।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ মেধাবীদের বাদ দেওয়ার প্রবণতা বন্ধেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় ৪৪তম, ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৮তম ও ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের কার্যক্রমও দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। চাকরির নিয়োগব্যবস্থা সংস্কারে এসব পদক্ষেপকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে বর্তমান সরকারের সময়ে এসব সংস্কার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিবির সভাপতি। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত মোবাসের মোমিন কমিশনের চেয়ারম্যান গত ১৮ আগস্ট ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে তার পদত্যাগের প্রকৃত কারণ নিয়ে জনমনে অস্পষ্টতা রয়েছে। সংস্কার কার্যক্রম পরিবর্তনের জন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল এবং সেই চাপ মেনে না নেওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা শুনতে পাচ্ছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১৫ ও ১৭ অক্টোবর পিএসসির দুই সদস্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোয়েল রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চায়ের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর পরপরই তারা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। শিবিরের দাবি, কার্যত তাদের জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

পিএসসির তথ্যপ্রযুক্তি কার্যক্রমে পরিবর্তন নিয়ে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রস্তুত ও প্রকাশের ক্ষেত্রে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বরে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পিএসসির তথ্যপ্রযুক্তি কার্যক্রমে বিতর্কিত ও রহস্যজনক পরিবর্তন আনা হয়েছে। অধ্যাপক সোয়েল রহমানের পদত্যাগের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডার থেকে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ক্যাডার এবং তথ্যপ্রযুক্তি শাখার সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তার দাবি, এসব নিয়োগের উদ্দেশ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সূক্ষ্ম জালিয়াতির মাধ্যমে মেধার অবমূল্যায়ন এবং দলীয় অনুগতদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো। এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘নগ্ন ও সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

মৌখিক পরীক্ষার নম্বর আবার ১০০ থেকে ২০০ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শিবির সভাপতি। তিনি বলেন, ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা গত ২৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর মূল্যায়ন, ফলাফল প্রস্তুত এবং প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, কারসাজি কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হলে হাজারো মেধাবী চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সুপারিশ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কী কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, সরকার তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। বাদ পড়া প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগও পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াত বা ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা কিংবা ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কিছু প্রার্থীকে বাছাই করে বাদ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিপরীত রাজনৈতিক চিন্তাধারার ব্যক্তিদের তালিকা করে বাদ দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তার মতে, এসব ঘটনা সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ লাভের অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৪ গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২৫:২৫ করার প্রস্তাবও রয়েছে বলে জানান তিনি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভাইভায় দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে বিসিএসের মেধাবীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গত ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ৩৫তম থেকে ৪৫তম বিসিএসের গেজেটে পিএসসির সুপারিশ করা ১ হাজার ৮৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫৬ জনকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ আমলের কালো আইন ব্যবহার করে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক যাচাই-বাছাই চালিয়ে সুপারিশপ্রাপ্তদের গেজেট থেকে বাদ দেওয়া জুলাই অভ্যুত্থানের মেধাভিত্তিক আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, প্রতিবাদের মুখে সরকার বাদ পড়া প্রার্থীদের গেজেট পরবর্তী সময়ে প্রকাশের কথা জানিয়েছে। একইভাবে ৪৯তম বিসিএসের গেজেট থেকেও ৫৭ জন প্রার্থীকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের অজুহাতে বাদ দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনের পর তাদের আবার গেজেটভুক্ত করা হয়। কিন্তু এসব ঘটনায় কারা দায়ী, কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং এর জবাবদিহিতা কী এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। আন্দোলনের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করাকে তিনি সরকারের একধরনের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থা সংস্কারে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ১২ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। প্রস্তাবনাগুলো হলো—

১.জুলাই জাতীয় সনদে উল্লেখিত প্রস্তাবনা অনুযায়ী পিএসসির কাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের জন্য স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠন করতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা ও পেশাগত দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

২.দশম, একাদশ কিংবা নবম গ্রেডসহ সরকারি সব চাকরির নিয়োগ পিএসসির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও উপসচিবদের আত্মীয়স্বজন, পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রয়োজনীয় জনবল বাড়িয়ে হলেও সব সরকারি চাকরির নিয়োগ পিএসসির অধীনে আনতে হবে। বিশেষ করে নবম ও দশম গ্রেডের সব নিয়োগ পিএসসির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশে মন্ত্রণালয় কিংবা অন্য কোনো মহলের অনানুষ্ঠানিক চাপ ও হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। পিএসসির প্রাতিষ্ঠানিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩.কোডভিত্তিক খাতা মূল্যায়ন, কম্পিটেন্সি বেজড ইন্টারভিউ, প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতিসহ মোবাসের মোমিন কমিশনের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলো বহাল রাখতে হবে।

৪.মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলোকে নিজ নিজ দপ্তরের অনুমোদিত শূন্য পদ, সম্ভাব্য অবসর, নতুন পদ সৃষ্টি এবং জনবল চাহিদার তথ্য নির্ধারিত সময়ে পিএসসিকে সরবরাহ করতে হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পিএসসি ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিত বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করতে হবে।

৫.নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থাতেই পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, যাতে নিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। নিয়োগের প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি, ফলাফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় এবং বিলম্বের কারণ ডিজিটাল মাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। কোনো পর্যায়ে অস্বাভাবিক বিলম্ব হলে তার ব্যাখ্যা জনসম্মুখে দিতে হবে।

৬.রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে কোনো প্রার্থীকে বৈষম্যের শিকার করা যাবে না। এ ধরনের বৈষম্য প্রতিরোধ ও নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করতে হবে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণিত হলে সেটি ভিন্ন বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

৭.সাধারণ সরকারি নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের উদ্দেশ্য, যাচাইয়ের মানদণ্ড, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ও সময়সীমা লিখিতভাবে প্রকাশ করতে হবে।

৮.জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং প্রাসঙ্গিক অপরাধসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। এ প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৯.পুলিশ ভেরিফিকেশনে কোনো নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। ভুল তথ্য কিংবা প্রশাসনিক ত্রুটি সংশোধন, আপিল ও পুনর্বিবেচনার কার্যকর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

১০.নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পদের ধরন ও দায়িত্ব অনুযায়ী লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর নির্ধারণ করতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার জন্য অভিন্ন মূল্যায়ন কাঠামো, নির্ধারিত মানদণ্ড এবং পরীক্ষকদের মূল্যায়নের রেকর্ড সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

১১.মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক নম্বর প্রদান কিংবা পরীক্ষকদের মূল্যায়নে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা দিলে তা পর্যালোচনার কার্যকর ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে ভাইভা পরীক্ষার অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে কোনো প্রার্থী মূল্যায়নে অসঙ্গতির অভিযোগ তুললে তা যাচাই ও পুনর্বিবেচনা করা যায়। কোনোভাবেই মৌখিক পরীক্ষার অসচ্ছ মূল্যায়নের কারণে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না।

১২.প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রক্সি পরীক্ষা ও অন্যান্য অনিয়ম প্রতিরোধে নিরাপত্তা প্রযুক্তি, ডিজিটাল নজরদারি এবং আধুনিক পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পিএসসির প্রযুক্তিগত ও পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি জবাবদিহিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক সংস্কারের স্বার্থে সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-এর ৮, ১৯ ও ২০ ধারাসহ প্রাসঙ্গিক বিধান পর্যালোচনা করতে হবে। নিয়োগ, পদোন্নতি, মূল্যায়ন ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে মেধা, সততা, দক্ষতা, কর্মসম্পাদন ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে পেশাগত যোগ্যতা ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।

প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘আমরা যে প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছি, সেগুলো বাস্তবায়ন এ দেশের ৪০ লাখ বেকারের প্রাণের দাবি। এই দাবি পূরণের জন্যই লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে এসেছিলেন। দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়া এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারার কারণে সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন জনগুরুত্বপূর্ণ দাবিতে পরিণত হয়েছে।’

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছেন, বর্তমান সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে। সরকার এসব প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হলে এর মূল্য দিতে হবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দাবি আদায়ে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারকে প্রাথমিকভাবে দাবিগুলো জানানো হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন এবং সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এখন গণদাবি। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, পিএসসিকে সেই দলীয়করণের বাইরে রাখতে হবে। সরকারকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বার্তা দিতে চায় ইসলামী ছাত্রশিবির।