০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:৫১

শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে ছাত্র মৈত্রীর বিক্ষোভ

শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিক হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাবিতে ছাত্র মৈত্রীর বিক্ষোভ  © সংগৃহীত

‎চলমান শ্রমিক আন্দোলনে শ্রমিক তৌফিক হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল সোয়া তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। 
‎
‎মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। ‘শ্রমজীবী জনতার সঙ্গে একাত্ম হও, চলমান শ্রমিক আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় হামলায় শহীদ তৌফিক হত্যার বিচার চাই’- এমন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মিছিলে অংশ নেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
‎
‎সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাত জাহান ইমু বলেন, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন আন্দোলন নয়। শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী অল্প বয়সেই শ্রমজীবনে প্রবেশ করতে বাধ্য হন।
‎
‎তিনি বলেন শ্রমিক তৌফিক শেখও এমন একজন, যিনি বাবার মৃত্যুর পর পড়াশোনার ব্যয় বহন করতে না পেরে গাজীপুরে চাকরি নেন। তাই শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পাশে দাঁড়ানো ছাত্রসংগঠন হিসেবে তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব।
‎
‎ইমু বলেন, ২০২৩ সালে ন্যূনতম মজুরি নিয়ে আন্দোলনের সময় দুই শ্রমিককে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালে বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনেও শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বর্তমান আন্দোলনেও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‎
‎তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সাভারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে হামলার ঘটনায় শ্রমিক আন্দোলনকারীদের দায়ী করার প্রচেষ্টারও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর মতে, ছাত্র ও শ্রমিক একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের অবদান রয়েছে। ছাত্র-শ্রমিকের ঐক্যের মধ্য দিয়েই শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনা দূর করতে হবে।
‎
‎সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, সরকার পরিবর্তন, অভ্যুত্থান কিংবা রাজনৈতিক পটপরিবর্তন- কোনো কিছুতেই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি পূরণ হচ্ছে না। ২০২৪ সালের শ্রমিক আন্দোলনের পর মালিক, সরকার ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে ১৮ দফা চুক্তি হলেও দীর্ঘ সময়েও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‎
‎জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, শ্রম আইন ও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি থাকলেও কারখানাগুলোতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া কিংবা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের শিকার হতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের চাকরির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
‎
‎শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়লে তার প্রভাব সমাজের অন্য শ্রেণির মানুষের ওপরও পড়বে। একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের সময় ন্যায্য মজুরি দাবি করার ক্ষেত্রেও শ্রমিকদের এই আন্দোলন একটি ভিত্তি তৈরি করছে। শহীদ তৌফিকসহ আন্দোলনরত শ্রমিকেরা সেই ভিত্তি নির্মাণ করছেন।
‎
‎তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বাড়ছে না। শ্রমিকদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
‎
‎সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত, ২০২৪ সালের ১৮ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং চলমান আন্দোলনে নিহত তৌফিক হত্যার বিচার দাবি জানানো হয়।