০২ নভেম্বর ২০২৬, ২২:৪০

ঢাবিতে শিবিরের দেওয়া এসি বন্ধ করে দিয়ে প্রশাসন বলছে ‘অননুমোদিত’

বিজয় একাত্তর হল  © ফাইল ফটো

‎​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলের রিডিং রুমে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সৌজন্যে স্থাপিত এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বন্ধ রেখেছে হল প্রশাসন। প্রশাসন বিনা অনুমতিতে এসি স্থাপনকে ‘অননুমোদিত’ ও ‘বৈদ্যুতিক ঝুঁকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তবে হল সংসদের দাবি, এসি স্থাপনের অনুমতির জন্য বারবার আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলেও প্রশাসন কোনো সাড়া দেয়নি।

‎​গত ২৭ অক্টোবর বিজয় একাত্তর হল কর্তৃপক্ষের জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিনা অনুমতিতে রিডিং রুমে একটি ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে এসি স্থাপন করা হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি। হলের বৈদ্যুতিক সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় অতিরিক্ত যন্ত্র সংযোজনে অগ্নিকাণ্ডসহ অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়। রিডিংরুমে এসি স্থাপনের জন্য হল প্রশাসন থেকে কারিগরি মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

‎ডাকসু ও হল সংসদের তত্ত্বাবধানে ​এসি স্থাপনের বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা বলেন, তারা এসি স্থাপনের কোনো অনুমতি নেয়নি। বিষয়টি অবগত হওয়ামাত্রই আমি হলের দায়িত্বরত শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমকে সেখানে পাঠিয়েছি। ছাত্র সংগঠনের ডোনেশনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্র সংগঠনগুলোর কাছ থেকে কিছু নেওয়ার কোনো প্র্যাকটিস বা নীতিমালা কখনো ছিল না। তিনি আরও জানান, সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনুমতি ছাড়া হলের সীমিত বৈদ্যুতিক সক্ষমতায় এসি লাগানো সম্ভব নয়।

‎প্রশাসনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিজয় একাত্তর হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আশিক বিল্লাহ বলেন, আমরা বারবার এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসণকে অবগত করেছি। গত ৫ অক্টোবর প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে ১১ অক্টোবরের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে আল্টিমেটাম দিই। কিন্তু প্রশাসন কোনো জবাব দেয়নি। ১২ অক্টোবর প্রাধ্যক্ষের রুমে হওয়া মিটিংয়েও জানানো হয়েছে যে এ বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। তখন আমরা স্পষ্ট জানিয়েছিলাম, কোনো সিদ্ধান্ত না দিলে আমরা ছুটির মধ্যেই এসি লাগিয়ে ফেলব।

‎বিজয় একাত্তর হল সংসদের ভিপি (সহ-সভাপতি) হাসানুল হক বান্না বিষয়টিকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করে বলেন, প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা তো করছেই না, উল্টো আমাদের শত্রু বানিয়েছে। এটি পুরোপুরি একটি পলিটিক্যাল ইস্যু। অন্যান্য হলে যদি বিভিন্ন সংগঠনের সৌজন্যে এসি বা অন্যান্য জিনিস নেওয়া যায়, তাহলে আমাদের হলে কেন নেওয়া যাবে না? প্রশাসন মূলত রাজনৈতিক কারণেই এটি আটকাচ্ছে।