৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬

জাকসুর নির্বাচন কার্যালয় ব্যবহার করবে শিক্ষক সমিতি, সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে আসবাবপত্র

জাকসু নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলা হচ্ছে  © টিডিসি ফটো

‎জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়টি শিক্ষক সমিতিকে সাময়িকভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে কার্যালয়ে থাকা নির্বাচনসংশ্লিষ্ট আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি সামনে এলে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক সভায় কার্যালয়টি শিক্ষক সমিতিকে সাময়িকভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা আড়াইটায় পুরোনো ফজিলাতুন্নেছা হলের পেছনের (ডি-৩৭ ও ডি-৩৮) ভবনে সরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা। তাঁদের দাবি, নতুন জাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও জাকসুর ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

‎‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একসময় শিক্ষক সমিতির অফিস ছিল। পরবর্তীতে শিক্ষক সমিতির নতুন অফিস তৈরি হলে জাকসু নির্বাচন পরিচালনার জন্য সাময়িকভাবে এই অফিসটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। কারণ, তখন জাকসু নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোনো অফিস ছিল না।’

‎‎তিনি বলেন, ‘বর্তমানে জাকসু নির্বাচন না থাকায় অফিসটি খালি পড়ে আছে। সামনে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন থাকায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাময়িকভাবে অফিসটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জাকসু নির্বাচনের সময় আবার অফিসটি নির্বাচন পরিচালনার কাজে ব্যবহার করা হবে।’

‎‎তিনি আরও বলেন, ‘অফিসে থাকা জাকসু নির্বাচনের প্রয়োজনীয় বাক্স ও অন্যান্য মালামাল নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। নির্বাচন শুরু হলে সেগুলো আবার অফিসে এনে জাকসু নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা হবে।’

‎‎পরবর্তী জাকসু নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য বলেন, ‘আমরা তো নতুন এসেছি। এখনো এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা। তাঁদের দাবি, নতুন জাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও জাকসুর ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

‎‎এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে জাকসুর সদ্য সাবেক এজিএস ও শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ফেরদৌস আল হাসান বলেন, ‘জাকসু নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল। এটি করার কোনো সুযোগ নেই।’

আরও খবর: সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে চারজনকে নিয়োগ, আয়া পদের ‘দাম’ ৪ লাখ!

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, প্রশাসন অবিলম্বে ১১তম জাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ও তফসিল ঘোষণা করুক। অন্যথায় প্রশাসন যদি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও জাকসুর ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমরা আগামীকাল থেকেই কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’

‎শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, ‘জাকসু নির্বাচন কমিশনের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আমরা তীব্র হতাশা ও নিন্দা জানাচ্ছি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমরা চার দফা দাবি জানিয়েছিলাম। এর মধ্যে নতুন জাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিও ছিল।’

রোডম্যাপ ঘোষণা না করে জাকসুকে ধীরে ধীরে অপ্রাসঙ্গিক করে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এটি শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা ও ভোটাধিকারের জন্য হতাশাজনক। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত নতুন রোডম্যাপ ঘোষণা করে জাকসুর ধারাবাহিকতা বজায় রাখুক। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হবে।’