২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩৬

শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে জাবিতে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল প্রকাশে ছয় থেকে আট মাসের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সমন্বিত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা এবং সেশনজট নিরসনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের সভাপতিদের সঙ্গে সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম।

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ বর্তমানে পৃথকভাবে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার পরিচালনা করছে। এসব ক্যালেন্ডার সমন্বয় করে অনুষদভিত্তিক অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করতেই সভার আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সেশনজট নিরসনে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন অপরিহার্য বলে সভায় বিভাগের সভাপতিরা একমত হয়েছেন। এ লক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব বিভাগকে তাদের প্রস্তাবিত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার সংশ্লিষ্ট ডিনদের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।পরে ডিনরা বিভাগগুলোর প্রস্তাব একত্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করবেন। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, ডিন ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকেরা সম্মিলিতভাবে এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করবেন। প্রতিটি অনুষদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সময় বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করা হবে।

শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা কমানোর বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, শিক্ষার্থীদের যেন পরীক্ষার ফলের জন্য ছয় থেকে আট মাস অপেক্ষা করতে না হয়। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করে ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং সেশনজট নিরসনে আমরা সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই।’

উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ৫৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ভর্তি কার্যক্রম, ক্লাস শুরুর সময়, পরীক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের সময়সূচি উল্লেখ থাকবে। ফলে শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই তাঁদের শিক্ষাজীবনের সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে ধারণা পাবেন।

তিনি আরও জানান, ৫৬তম ব্যাচ ও পরবর্তী ব্যাচগুলোর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অভিন্নতা নিশ্চিত করতে চায় প্রশাসন। পাশাপাশি ৫৬তম ব্যাচের আগের শিক্ষার্থীদের জন্যও সমন্বিত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পুরোনো ব্যাচগুলোর মধ্যে কিছু বর্ষভিত্তিক এবং কিছু সেমিস্টারভিত্তিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ায় এ ক্ষেত্রে ভিন্নতা বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রতিটি অনুষদের অ্যাকাডেমিক কাঠামো অনুযায়ী পৃথকভাবে সমন্বিত ক্যালেন্ডার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও সমন্বয় বাড়বে। একই সঙ্গে সেশনজট কমিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে।